
স্টাফ রিপোর্টার : বাড়ি ফেরার কথা ছিল দুই ভাই-বোনের।পাঁচ দিনের নানাবাড়ির ছুটি শেষে রোববারই ফেরার কথা ছিল নিজ বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই বৌলাই নদীর জল কেড়ে নিল চার বছরের মহসিন মিয়াকে। তীরে ফিরেছে ছয় বছরের বোন তাসকিয়া—আর নদীর বুকে এখনও নিখোঁজ তার ছোট ভাই।রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বীরনগর এলাকার কুড়িরপাড়ের খালে গোসল করতে গিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ শিশু মহসিন মিয়া (৪)ও তার বোন তাসকিয়া আক্তার (৬)সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন গৌরারং ইউনিয়নের কামারটুক গ্রামের জাকির হোসেনের সন্তান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সকালে ভাই-বোন বৌলাই নদীর পাড়ের কুড়িরপাড়ের খালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তারা পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।এ সময় স্থানীয় সাবাল নূরের স্ত্রী তাজিয়া পানিতে শিশুর মাথার চুল ভেসে থাকতে দেখে দ্রুত পানিতে নেমে তাসকিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করেন। কিন্তু তার ছোট ভাই মহসিন মিয়া পানির গভীরে তলিয়ে যায়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহসিনকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।শিশু দুটির নানা আব্দুর রশিদ জানান,তারা গত পাঁচ দিন ধরে তার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। রোববার তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।আব্দুর রশিদ বলেন,পাঁচ দিন ধরে আমার বাড়িতে ছিল তারা। আজ নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নাতি মহসিন এভাবে চলে যাবে,তা কখনো ভাবিনি। বাড়ি ফেরার বদলে সে চিরতরে বিদায় নেবে—এ কষ্ট কীভাবে সহ্য করি?”এদিকে মহসিনের সন্ধানে বৌলাই নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারি চলছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। শিশুটির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।একদিকে জীবিত ফিরে পাওয়া বোন তাসকিয়া, অন্যদিকে নিখোঁজ ভাই মহসিন—বৌলাই নদীর তীরে এখন অপেক্ষা শুধু একটাই,কখন মিলবে ছোট্ট মহসিন কে।





























