
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ ‘যেখানে মাদক, সেখানেই আটক’ এমন কঠোর নির্দেশনার মধ্য দিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মধ্যধানঘড়া গ্রামকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান একই সঙ্গে মাদক, জুয়া ও চুরিসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) মাগরিবের পর মধ্যধানঘড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আজিজুর রহমান বিএসসি। এতে ইউপি সদস্য কালাম, কাদের মেম্বার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চেয়ারম্যান জুলফিকার বলেন, “যেখানে মাদক, সেখানেই আটক করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি বলেন, মাদকের বিস্তারের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে। তাই মাদক নির্মূলের পাশাপাশি চুরি, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে সভায় একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধ ও চুরির বিচারসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চেয়ারম্যান জুলফিকারের নির্দেশনায় ওই কমিটি কাজ করবে বলে সভায় জানানো হয়। সভায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো খেলার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলা হয়। প্রয়োজনে নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সভায় আলোচনা হয়। সভায় স্থানীয় এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি চুরির অভিযোগও তুলে ধরা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের বক্তব্য, মাদকের অর্থ জোগাড় করতে কেউ কেউ চুরির মতো অপরাধে জড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো চুরির সঙ্গে মাদকের যোগসূত্রের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মধ্যধানঘড়া ( বকশীখামার) এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ রানার অভিযোগ, তাঁর জমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি মেশিন চুরি হয়েছে। তাঁর বাবা মৃত নাদের আলী। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের মেশিনটি রাত ১টার দিকে জমির মেশিনঘর থেকে চুরি হয়। এ ছাড়া মো. শামছুল আলমের নিজ বাড়ি থেকে ফ্রিজ, ধান সিদ্ধ করার পাতিল ও স্ট্যান্ড ফ্যান চুরির অভিযোগও সভায় ওঠে। এসব ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। ইউপি সদস্য কালাম বলেন, “মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। চুরি ও মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।” স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা বলেন, শুধু ঘোষণা দিলেই একটি এলাকা মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি এবং তরুণদের সচেতন করার উদ্যোগ একসঙ্গে চালাতে হবে। সভায় মধ্যধানঘড়া গ্রামকে মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।





























