
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এমপিওভুক্ত বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেকেন্দার আলী ও তার শ্যালক আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ এক বছর পার হলেও চাকরি না পেয়ে এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগী এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গণপতি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মোস্তাকিম আল শাহাদা প্রিন্সকে বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধান শিক্ষক মো. সেকেন্দার আলী। এ জন্য মোট ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথমে ৮ লাখ টাকা জমা দিতে বলা হয় প্রধান শিক্ষকের শ্যালক আশাশুনি উপজেলার শোভনালী গ্রামের আশরাফ আলীর কাছে।
চাকরির আশায় প্রিন্স নগদ ৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। তাকে বলা হয়েছিল, বিদ্যালয়ের একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষককে অপসারণ করে তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর থেকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে নানা অজুহাত ও টালবাহানা শুরু হয়। সময় গড়াতে থাকলেও নিয়োগের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।
ভুক্তভোগী প্রিন্স বলেন, “চাকরি দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও কোনো চাকরি পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেকেন্দার আলী বলেন, “আমি সরাসরি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। আমার শ্যালক আশরাফ আলীর কাছে প্রিন্স টাকা দিয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে চাকরির জন্য যার কাছে টাকা দিয়েছে তার কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য বলেন তিনি।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের এমন বক্তব্যে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চাকরির বিষয়ে তার নাম ব্যবহার করে টাকা লেনদেন হলেও তিনি দায় এড়িয়ে যেতে পারেন কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে আশরাফ আলী সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোস্তাকিম আল শাহাদা প্রিন্সের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে আমি কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। তবে চাকরির বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এছাড়া বিদ্যালয়ে সর্বশেষ নিয়োগ কার্যক্রম ২০১৫ সালেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।




























