
মোঃ রিপন মুনসী আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এবং সরকারের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও অবকাঠামোগত কাজ পরিচালিত হয়।
বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং ছাদের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে সেবা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ভবনের জরাজ্বীর্ন অবস্থাটিতে দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০০৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মিত দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে লোহার রড বের হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় নথিপত্র সংরক্ষণেও সমস্যা হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বেহাল অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন যদি অনিরাপদ অবস্থায় থাকে, তাহলে তা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকিও সৃষ্টি করে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভবনটির প্রকৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ বা প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এনএসএস এর আরএমএসসিএস প্রজেক্টের আমতলী সদর ইউনিয়ন সুপারভাইজার মো: মুহিত হোসেন বলেন,আমরা অনেক সময় সেবা ও তথ্য প্রচার করে থাকি। তখন অনেক লোকজন আসেন তারা কিন্তু সকলেই ঝুকির মধ্যে প্রোগ্রাম করেন।এতে অতীব জরুরী ভিত্তিতে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মান করা হোক।
দক্ষিন আমতলীর সেবাগ্রহীতা খাদিজা বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরাজীর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নিন। যাতে এখানে সেবা নিতে আসা জনসাধারণ ঝুকিতে না থাকতে হয়।
আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন বলেন,আমতলী ৬ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সটি শুরু থেকেই ঝুকির মধ্যে রয়েছে।এখানে সেবা নিতে প্রায় তিন/চার শত লোক আসেন। তারা উপরে উঠতে গেলে ভবনটি কম্পন শুরু করে এবং দেওয়াল ও পিলার খসে পরছে। এদিক বিবেচনা করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে নতুন ভবন নির্মান করা হোক।
আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো: মানজুরুল হক কাওসার বলেন,আমি এ ইউনিয়নে প্রশাসক পদে দায়ীত্ব পাওয়ার পরে প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি পরিদর্শন করি তাতে দেখতে পাই ভবনটির পিলার, ছাদ, দেয়াল ও পলেস্তার খসে পরে যাচ্ছে। এতে একপ্রকার বড় ধরনের ঝুকির সম্ভাবনা রয়েছে।অতীব জরুরী ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে নতুন ভবন নির্মান করা হোক।আমরা এ ব্যপারে মৌখিকভাবে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জাফর আরিফ চৌধুরী স্যারকে অবগত করেছি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন,আমরা বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষদের অবহিত করবো। যাতে দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মান হয়।




























