
শাহিন মিয়া অষ্টগ্রাম
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এটি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম না থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য স্থানীয়দের শতভাগ নির্ভর করতে হয় এ হাসপাতালের ওপর। ২০১৩ সালে দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১০ বছরেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসকের মোট পদের ৬৬ শতাংশই শূন্য। অনুমোদিত ৩৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে ১১টি কনসালটেন্ট পদ এবং ১টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদ সম্পূর্ণ খালি। নার্সিং ও সেবিকা ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম ঘাটতি; ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১১ জন। ফলে অভ্যন্তরীণ রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে নার্সদের।
পেতে হচ্ছে নার্সদের। পূর্বে এ হাসপাতালে সিজারিয়ান সুবিধা চালু থাকলেও দক্ষ সার্জনের অভাবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এনেস্থেশিয়া ডাক্তার ও গাইনি সার্জনের অনুপস্থিতিতে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আধুনিক অপারেশন থিয়েটার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া কার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি), আল্ট্রাসাউন্ড, জুনিয়র মেকানিক ও ফার্মাসিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদে ১০০% শূন্যতা বিরাজ করছে। বর্তমানে মাত্র সীমিত আউটডোর সেবাসহ কর্মরত অল্পসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে কোনোরকমে জরুরি, ইসিজি ও বহির্বিভাগের সেবা চালু রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোঃ মহিবুল্লাহ জানান, তীব্র জনবল সংকট ও চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.সাইদুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের জনবল নিয়োগ মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। আমরা নিয়মিত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।





























