
বাঁশখালী প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন এক সমীকরণ সামনে এসেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা তিন নেতাকেই রাখা হয়েছে উপজেলা ভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটিতে। তারা হলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুর রহমান চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাষ্টার মোহাম্মদ লোকমান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলোয়ার আজিম। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং জনমত ও সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা ভিত্তিক যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিঠিতে বাঁশখালী উপজেলা কমিটিতে ছয়জনকে রাখা হয়েছে। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আমিনুর রহমান চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মাষ্টার মোহাম্মদ লোকমান ও দেলোয়ার আজিম। এদের মধ্যে আমিনুর রহমান চৌধুরী, মাষ্টার মোহাম্মদ লোকমান ও দেলোয়ার আজিম তিনজনের নামই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাঁশখালীর সম্ভাব্য দলীয় সমর্থিত প্রার্থী যাচাইয়ের তালিকায়ও এই তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে যারা নিজেরাই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, তারাই যখন সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কমিটির সদস্য, তখন তাদের ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে? অবশ্য কমিটিতে থাকা মানেই কেউ নিজে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা চিঠিতে উল্লেখ নেই। বরং চিঠিতে মাঠপর্যায়ে জনমত, সাংগঠনিক অবস্থান ও দলীয় সমর্থিত প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুতের কথা বলা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং জনমত ও সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা সংগ্রহের লক্ষ্যে উপজেলা ভিত্তিক যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি মতামত গ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও সঠিক মতামতসহ প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া এবং সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। অর্থাৎ উপজেলা ভিত্তিক এই যাচাই-বাছাই কমিটি জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেই গঠিত হয়েছে। এর ফলে বাঁশখালীর রাজনীতিতে এখন আলোচনার বিষয় শুধু কে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন তা নয়; বরং সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকেই যখন প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটি গঠিত হয়েছে, তখন বাছাই প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়—সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রার্থীদের কমিটিতে রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এখন দেখার বিষয়—প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকা আমিনুর রহমান চৌধুরী, মাষ্টার মোহাম্মদ লোকমান ও দেলোয়ার আজিম শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাইয়ের টেবিলে থাকেন, নাকি নিজেরাই উঠে আসেন প্রার্থিতার চূড়ান্ত তালিকায়।




























