
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ারদী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিতোষ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে সরকারি কক্ষ ভাড়া দেওয়া, সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে মহিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সীন সাঈদী বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার সরকারি আবাসনে অবস্থান করেন এবং তাঁর মা উম্মে হানি মেয়ের সঙ্গে থাকেন। উম্মে হানি পার্শ্ববর্তী দিলালপুর এলাকায় পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত।মহিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, “সীন সাঈদী একজন কর্মরত স্টাফ। নিয়ম অনুযায়ী তিনি পরিবার নিয়ে থাকতে পারেন। এখানে ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অভিযোগগুলো হাস্যকর ও ষড়যন্ত্রমূলক।”সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে থাকা টিনশেড ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। “৫ আগস্টের পর স্থানীয় লোকজন সেখানে সময় কাটায়। আমার মতো একজন কর্মকর্তা এসব বিষয়ে এককভাবে কিছু করার অবস্থানে নেই। ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা,” দাবি করেন তিনি।সীন সাঈদী বলেন, “আমি এখানে চাকরি করি এবং সরকারি আবাসনে থাকি। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার সঙ্গে থাকতে পারেন। ভাড়া দেওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”তাঁর মা উম্মে হানি বলেন, “মেয়ের নিরাপত্তার জন্য আমি তার সঙ্গে থাকি। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।”স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ জানান, টিনশেড ঘরটি বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন সেখানে অবসর সময় কাটান। “এটি বিএনপির কোনো কার্যালয় নয় এবং ভাড়া দেওয়ার বিষয়েও আমাদের জানা নেই,” বলেন তিনি।এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দিনের বেলায় কেন্দ্র তালাবদ্ধ থাকা এবং রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে মহিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, তাঁর চাকরিজীবনের মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। বয়সজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কখনও কখনও অফিসে আসা-যাওয়ার সময় সামান্য এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেন।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মহিতোষ চন্দ্র দাসকে তারা সাধারণত অফিস সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখতে পান। তাঁদের মতে, ওষুধের সংকট থাকলেও তিনি নিয়মিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।অন্যদিকে, উম্মে হানি ও তাঁর মেয়ে সীন সাঈদীর জন্মতারিখ ও শিক্ষাগত তথ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে মহিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, “এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। নিয়োগ বা যাচাইয়ের দায়িত্ব আমার নয়। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবসরের পূর্বমুহূর্তে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে বাজিতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।”কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা খন্দকার মাহবুবুর রহমান বলেন, “কোনো নারী কর্মচারী সরকারি আবাসনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকলে সেটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়েও আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। অনেক কেন্দ্রে সীমানাপ্রাচীর ও গেট না থাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।”অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।




























