
বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে। সেই ধারারই একজন উদীয়মান নাম সিরাজগঞ্জের ছেলে মোঃ রাসেল সরকার। গ্রাফিক ডিজাইন, মোশন গ্রাফিক্স, থ্রিডি অ্যানিমেশন, ভিডিও এডিটিং, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুগল নলেজ প্যানেল এবং ব্র্যান্ড কনসালটেন্সির মতো বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান ফ্লাইওনিক্স।
২০১৮ সালে পেশাদারভাবে ডিজিটাল সেবার যাত্রা শুরু করেন রাসেল সরকার। শুরুতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করলেও ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা ও সেবার মান দিয়ে বিভিন্ন দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে দুই হাজারেরও বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের জন্য তিনি ব্র্যান্ডিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান প্রদান করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক চাহিদা ও ব্র্যান্ডিং কৌশল সম্পর্কে সমৃদ্ধ ধারণা দিয়েছে।
রাসেল সরকারের মতে, একটি ব্র্যান্ডের সফলতা নির্ভর করে শুধু আকর্ষণীয় ডিজাইনের ওপর নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা, সৃজনশীল চিন্তা এবং গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর। এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি ব্র্যান্ড ও বিজনেস কনসালট্যান্ট হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পরিচিতি, বিপণন কৌশল এবং ব্র্যান্ড উন্নয়নে সহায়তা করে আসছেন।
ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়ার ক্ষেত্রে তিনি অ্যাডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, ইনডিজাইন, লাইটরুম ও ক্যানভাসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে দক্ষ। পাশাপাশি আফটার ইফেক্টস, প্রিমিয়ার প্রো, ক্যাপকাট এবং এফএল স্টুডিও ব্যবহার করে মোশন গ্রাফিক্স, ভিডিও সম্পাদনা ও অডিও প্রোডাকশনের কাজও করে থাকেন। আধুনিক ডিজাইন ট্রেন্ড, টাইপোগ্রাফি, রঙের ব্যবহার এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ে তাঁর দক্ষতা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
নিজের প্রতিষ্ঠান ফ্লাইওনিক্স সম্পর্কে রাসেল সরকার বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ডিজাইন তৈরি করা নয়, বরং এমন সমন্বিত ডিজিটাল সমাধান দেওয়া, যা একটি ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে পারে। প্রতিটি ক্লায়েন্টের জন্য আমরা তাদের লক্ষ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করি।
পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল নিয়ে গবেষণা করেন। বই পড়া, লেখালেখি, আলোকচিত্র এবং প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া তাঁর সৃজনশীল চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবাখাতকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সিরাজগঞ্জের এই তরুণের পথচলা প্রমাণ করে, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্ববাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফ্লাইওনিক্স আজ সেই সম্ভাবনারই একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।
শুভ্র/






































