
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশা প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তাপঞ্চগড়ের বোদায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বোদা পাইলট সরকারি স্কুল ও বোদা সরকারি পাথরাজ কলেজে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।কর্মসূচিতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ারসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়ে সচেতন করা হয়।এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।বোদা পাইলট সরকারি স্কুল ও বোদা সরকারি পাথরাজ কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে সেই সচেতনতা পরিবার থেকে শুরু করে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচি পালন নয়, সারা বছরই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করুন এবং অন্যকেও সচেতন করুন।সচেতন হই, পরিচ্ছন্ন থাকি—ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ি




























