
সাআদ মাহমুদ। হালুয়াঘাট প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ। উপজেলা প্রশাসন জানায়, দেশীয় মৎস্যসম্পদ, জলজ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুরক্ষার স্বার্থে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর প্রজাতির মাছের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ চাষ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুকুরটি লিজ দেওয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসরাতারা। তিনি বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই এই পুকুরটি লিজ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন পুকুরের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি এ বিষয়ে আগামীকাল তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বিদ্যালয়ের সভাপতি। পুকুরের লিজ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুকুরটির লিজগ্রহীতা আল আমিন জানান, গত বছর আলমের সঙ্গে বিরোধের পর তিনি পুকুরটি থেকে সরে আসেন। বর্তমানে পুকুরটি আলমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, আলম মাছ শিকারের জন্য বড়শির অনুমতিপত্র বা টিকিট বিক্রি করেছেন।
মাছ শিকারি শরিফুল হাসান বলেন, তাঁরা পুকুরে মাছ শিকারের জন্য টিকিট কিনেছিলেন প্রতিটি বড়শির জন্য ১২ হাজার টাকা করে নিয়ে মোট ১২টি বড়শির অনুমতিপত্র বিক্রি করা করেছেন লিজ দাতা । সেখানে গিয়ে পিরানহা মাছ পাওয়ায় তাঁদের মাছ ধরার খাবার ও বড়শি নষ্ট হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে মাছগুলো জব্দ করায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক মাছ শিকারি রাজিব জানান, পুকুরের লিজগ্রহীতা মাছ শিকারের জন্য দেওয়া টিকিটের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক মিলন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুকুরে নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলে বিষয়টি উদ্বেগের। তাঁর মতে, পুকুরটি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং নিষিদ্ধ মাছ কীভাবে সেখানে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে লিজ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর পুকুরে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছের উপস্থিতি, লিজের শর্ত এবং মাছ শিকারের জন্য টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে




























