
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ, ৫ মে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান আজ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক পরিস্থিতি, অকাল বৃষ্টিপাত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিদর্শনকালে সচিব হাওর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি চলমান কৃষি কার্যক্রম, ধানের অবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সার্বিক চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পানির স্তর বৃদ্ধি, আগাম বন্যার আশঙ্কা এবং ফসল রক্ষায় গৃহীত প্রস্তুতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সচিব মাঠপর্যায়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জরুরি করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং নেন। তিনি বিশেষভাবে জানতে চান—বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কীভাবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব বলেন, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হলে সরকারের নির্ধারিত কিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। নদী খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এসেছেন। নদী ও খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস, পলি জমা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তিনি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তিনি ঊর্ধ্বতন মহলে তুলে ধরবেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নদী খনন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। পরিদর্শন শেষে সচিব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি, ত্রাণ কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা পরিদর্শনে অংশ নেন। স্থানীয়দের আশা, এ পরিদর্শনের মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের চলমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে এবং কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা





























