
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শুভর মা নার্গিস মাকসুদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি পক্ষ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপিপুত্র আবুল কাউসার আশা বলেছেন, পরে কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।
নার্গিস মাকসুদের অভিযোগ, আবুল কাউসার আশা ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি পক্ষ জোরপূর্বক লাঙ্গলবন্দে তাঁর ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভর অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করে। এ সময় অফিসের ম্যানেজারদের মারধর করা হয়। পরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
নার্গিস মাকসুদ বলেন, লাঙ্গলবন্দে তাঁদের নিজস্ব জায়গায় ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভ একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম গড়ে তুলেছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে চাপ ও হুমকির কারণে জিমটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তাঁরা। তাঁর দাবি, জিম সরিয়ে না নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলা করা হবে বলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে কোনো আইনি জটিলতায় না গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জিমের সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে জিম সরিয়ে নেওয়ার পরও বিরোধের অবসান হয়নি বলে দাবি করেন নার্গিস মাকসুদ। তাঁর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার সময় আবুল কাউসার আশা ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি পক্ষ তাঁদের ছেলের অফিসে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
নার্গিস মাকসুদের আরও অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পেপার মিলের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত আলোচনা আলাদা বিষয় হলেও সেখানে অন্য পক্ষ কেন হস্তক্ষেপ করছে এবং তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কেন তালা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনার পর নিজের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নার্গিস মাকসুদ। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আবুল কাউসার আশা বলেন, ‘আমরা আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে গিয়েছি। পরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।’
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




























