
মোঃ সাইফুল ইসলাম
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ইয়োগা (Yoga) বা যোগব্যায়াম হলো একটি প্রাচীন ভারতীয় মনোদৈহিক চর্চা, যা শরীর, মন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এটি কেবল শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং সঠিক জীবনযাপনের একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান। ২০১৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছরের এই দিনে দিনটিকে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
এই ধারাবাহিকতায় "শারিরীক সুস্থতা, প্রফুল্ল মন ও জীবন গঠন" প্রতিপাদ্য নিয়ে মডার্ন ইয়োগার উদ্যেগে ২০ই জুন শনিবার রূপগঞ্জের জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্কে পালিত হলো আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস।
মডার্ন ইয়োগার অন্যতম কর্ণধার নাসরিন আক্তার জানান- আমাদের দেশের অনেক সচেতন মানুষ আজ ইয়োগা'তে অভ্যস্ত হচ্ছে, ইয়োগার প্রতি দিন দিন সকল শ্রেণী পেশার মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন- ইয়োগার প্রধান ৩টি শাখা। ইয়োগায় মূলত আটটি শাখা বা স্তর থাকলেও, বিশ্বজুড়ে এই তিনটি শাখা সবচেয়ে বেশি চর্চা করা হয়। ৩ টি শাখা হলো-
১। আসন (Asana): বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি ও আসন, যা পেশী ও হাড়কে শক্তিশালী ও নমনীয় করে।
২। প্রাণায়াম (Pranayama): শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম, যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং মনকে শান্ত করে।
৩। ধ্যান বা মেডিটেশন (Meditation): মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ দূর করার পদ্ধতি।
এসম তিনি উপস্থিত বিভিন্ন বয়সের নারীদেরকে ইয়োগা ব্যায়াম শেখান এবং আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসের সফলতা কামনা করেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়- জনপ্রিয় কিছু ইয়োগার ধরন হলো- (Hatha) ইয়োগা: আসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমন্বয়ে ধীরস্থির চর্চা, যা নতুনদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
বিনিয়াসা (Vinyasa) ইয়োগা: এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত এক আসন থেকে অন্য আসনে যাওয়া হয়।
কুন্ডলিনী (Kundalini) ইয়োগা: শারীরিক ভঙ্গির পাশাপাশি মন্ত্র, ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শক্তি জাগ্রত করার চর্চা।ইয়োগার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাস্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি কমায়: নিয়মিত প্রাণায়াম ও ধ্যান মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে। শারীরিক সক্ষমতা ও ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়: আসনগুলো শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং পিঠ বা কোমর ব্যথার মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা কমায়。হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: সঠিক রক্ত সঞ্চালন ও বিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়। মানসিক প্রশান্তি: মনকে ফোকাসড রাখতে ও শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ইয়োগা করার প্রাথমিক নিয়ম হলো- খালি পেটে ইয়োগা করা সবচেয়ে ভালো (খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর)। আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করুন এবং একটি মাদুর বা যোগা ম্যাট ব্যবহার করুন। খুব কঠিন আসন দিয়ে শুরু না করে, সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও হালকা আসন দিয়ে শুরু করা উচিত।




























