
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ এজেন্ট ও ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বিকাশ অ্যাকাউন্টের ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও নিহতের একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বন্দর উপজেলার সেল সারদী এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাঁকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল থেকে তিনি মোতালেব হোসেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৌশলে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ভোরে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে মাসদাইরের জামতলা এলাকায় ফেলে রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় বসবাস করতেন এবং মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।




























