
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় ১৪ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ধারণাপত্র, বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), স্থাপত্য নকশা ও কাঠামোগত নকশা প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইউজিসি ও ডুয়েটের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডুয়েট প্রকল্পের ধারণাপত্র, ডিপিপি, স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা প্রস্তুত করবে। এরপর ডিপিপি অনুমোদনের পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত ১৪ তলা ভবনটিতে মোট ৫২টি ফ্ল্যাট থাকবে। এর মাধ্যমে ইউজিসির ৫২টি কর্মচারী পরিবার আবাসনের সুযোগ পাবে। বর্তমানে মিরপুরের ওই আবাসিক এলাকায় কর্মচারীদের জন্য ৪০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবনে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৮০০ বর্গফুট এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট থাকবে। এছাড়া বেসমেন্টসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ডুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ইউজিসি যে আস্থা রেখে ডুয়েটকে এ প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় তা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে। তিনি জানান, ডুয়েটে দক্ষ প্রকৌশলী ও স্থপতি রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিপিপিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হবে। সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে দ্রুত বাস্তবায়নকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।




























