
পিরোজপুরের কাউখালীতে দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকরা।
সকাল ১০টায় সরকারি কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয় দুটির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। জানা যায়, কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র চারজন। অন্যদিকে কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০ জন ছাত্রীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র সাতজন।
দুটি স্কুলেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর ভর করেই চলছে প্রতিষ্ঠান দুটি। এছাড়া ইংরেজি, গণিত বা ব্যবসায় শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনো শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে জোড়াতালি দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিভাবক মো. আল আমিন খান ও এনামুল হক অবিলম্বে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। স্থানীয় নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয় দুটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরাও তাদের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছেন। কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা এখন সময়ের দাবি। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আখতার হোসেন জানান, বর্তমান জনবল নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো খুবই কঠিন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কাউখালীর এই শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তারা অবগত আছেন। শূন্য পদের তালিকা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষক পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
কাউখালীর সাধারণ মানুষ এখন কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে পায়।
শুভ্র/




























