
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের উত্তর কোলকোন্দ ৬ নং ওয়ার্ডে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত গ্রোয়েন বাঁধ এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং ভারত থেকে নেমে আসা বন্যার পানির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তার পানির প্রবল চাপে গ্রোয়েন বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট পাকা অংশের নিচে হুলের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধটির মোট কাঠামোর মধ্যে প্রায় ১৯০০ ফুট বালুভর্তি অংশ এবং সামনের ৩০০ ফুট পাকা অংশ রয়েছে। বর্তমানে পাকা অংশের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ধীরে ধীরে কাঁচা অংশে আঘাত করছে, যা বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দের ২০০ জিও ব্যাগ দিয়ে গ্রয়েন বাঁধের ভাটিতে কৃষি জমি ভাঙন ঠেকাতে নদীতে ফেলা হচ্ছে। তাও অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রথম গ্রোয়েন বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। এতে মূল শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গঙ্গাচড়াসহ রংপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আশপাশের প্রায় ৫০০টিরও বেশি বাড়িঘর এবং শত শত একর কৃষিজমি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, কোলকোন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দুটি গ্রোয়েন বাঁধ ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয়। রংপুর জেলার অধীন এই এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষার জন্য এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী মেরামত ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হয়।




























