
রাজশাহীর পবা থানার নওহাটায় প্রভাবশালী চক্র ও ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অমানবিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি এবং পৈতৃক সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনালী আলো মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মোঃ ফেরদৌস।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুর দেড়টায় রিভার সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ ফেরদৌস বলেন, ২০০৯ সাল থেকে তিনি এবং তার পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র, বিশেষ করে নওহাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ২নং প্যানেল মেয়র দিদার হোসেন ভুলু এবং মোঃ সাদিকুল ইসলাম মেজো’র চরম জুলুম ও ষড়যন্ত্রের শিকার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ফেরদৌস জানান, ২০১৯ সালে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা সোনালী আলো মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ করতে শত শত পুলিশ দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নেয় ওই চক্রটি। এর প্রতিবাদ করায় তাকে এবং তার বৃদ্ধা মাকে সিএনজি ও মোটরসাইকেল দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও জানান, গত ২০ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের কর্মসূচি প্রস্তুতিকালীন সাদিকুল ইসলাম মেজোর অনুসারীরা তার স্ত্রী ও সহকর্মীদের ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালায়। এমনকি বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা উল্লেখ করে ফেরদৌস বলেন, "আমি কোনো সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত না থাকলেও শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার প্রতিকার চেয়েও আমি কোনো সুরাহা পাইনি।"
পুরো বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অবগত আছেন উল্লেখ করে তিনি জীবনের নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরাময় কেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোঃ সাদিকুল ইসলাম মেজো। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, "গত সোমবার সন্ধ্যায় আমার বাড়ির পেছনে কয়েকজন গাঁজা সেবন করছিলো। আমি গিয়ে তাদের নিষেধ করলে তারা আমার সাথে খারাপ ও মারমুখী আচরণ করে। একই সময় মোঃ ফেরদৌসের স্ত্রী আমাকে গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। পরে আমার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে তার প্রতিবাদ করে এবং নিরাময় কেন্দ্রটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কোনো গোলযোগের বিষয় তার জানা নেই। তবে ওই প্রতিষ্ঠান বা ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























