
মো কামরুল হোসেন সুমন, মনপুরা:নদীবেষ্টিত প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চল ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় দূরত্ব, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক শিশু প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সুশীলনের সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন (এসবিসি) প্রকল্প। গত ২৮ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ইউনিসেফের সহযোগিতায় সুশীলনের এসবিসি প্রকল্পের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দিনব্যাপী নিরলসভাবে কাজ করেন। তারা মাইকিং, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক পরামর্শের মাধ্যমে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করেন, যাতে কোনো শিশুই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে। তাদের প্রচেষ্টায় ৩০০-এরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাপসুল সংকট নিরসন এবং হাম-সন্দেহভাজন একটি শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুশীলনের মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মনপুরার মতো দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলে যোগ্য শিশুদের শতভাগ ভিটামিন ‘এ’ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুশীলনের এ উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করতে সুশীলনের কর্মীরা যে আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এলাকাবাসী আরও মনে করেন, সরকারের বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের এ ধরনের কার্যকর অংশগ্রহণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মনপুরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুশীলন ও ইউনিসেফ আবারও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




























