
মো. মুরাদ মৃধা, রাণীনগর
নিজেদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে নওগাঁর আত্রাইয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা । সোমবার সকালে আত্রাই-নওগাঁ-নাটোর মহাসড়কের আত্রাই ব্রিজ ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় 'বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন' (ফারিয়া) আত্রাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন আত্রাই উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মো. রিক্তা হোসেন
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা দেশের এক বিশাল শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হচ্ছেন। ওষুধ শিল্পের প্রসারে এবং সঠিক তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে তারা নিরলস কাজ করলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
বক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন আমরা দালাল নই, আমরা শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত পেশাজীবী। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে।
সমাবেশে প্রতিনিধিরা তাদের কর্মক্ষেত্রে সম্মুখীন হওয়া বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরেন তারা।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মহলের অপ্রয়োজনীয় বাধা,
চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অহেতুক কঠোর সময় নির্ধারণ, যা কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে,
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সময় নিরাপত্তারক্ষী বা সংশ্লিষ্টদের অসংবেদনশীল ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক আচরণ।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া কে
এছাড়াও বক্তারা আরও জানিয়ে দেন চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক প্রবেশের অধিকার।
পেশাগত কাজে যেকোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক হেনস্তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
স্বাস্থ্যসেবার অংশীজন হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সভাপতি রিক্তা হোসেন বলেন আমাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা হলে বাজারে ওষুধের সরবরাহ এবং নতুন ওষুধ সম্পর্কে চিকিৎসকদের ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্য খাতেরই ক্ষতি করবে।
যদি হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করে, তবে আগামীতে কর্মবিরতি'র মতো আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হবেন। পেশার মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজের গুরুত্ব ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।





























