
মনিরব হোসেন সুমন:
মাত্র ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য খুন করা হয় বিধবাকে। মৃত্যু নিশ্চিতের জন্য আঙুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যার এসব তথ্য উঠে আসে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় হত্যায় জড়িত কথিত এক দম্পতিকে। গ্রেপ্তার ২ জন হলেন নুসরাত জাহান মীম ও তার কথিত স্বামী জীবন। এ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত রোববার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে নুসরাত জাহান মীম ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হায়দার আলীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সদর থানার চরসৈয়দপুর এলাকা হতে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ৫ মার্চ চর সৈয়দপুর এলাকায় ঢাকা হতে মুন্সিগঞ্জগামী রাস্তার বাম পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী একটি লাশ পাওয়া যায়। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের নাম পরিচয় শনাক্ত করে। ভিকটিমের নাম অনন্যা কর্মকার (৩৫)। স্বামী মৃত হরে কৃষ্ণ কর্মকার। এ ঘটনায় অনন্যার ভাই বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করলে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হত্যায় সরাসরি জড়িত জীবন ও নুসরাত জাহান মীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার অনন্যা কর্মকার চর সৈয়দপুরে স্বামী হরে কৃষ্ণ এর সাথে বসবাস করতেন। তার স্বামী শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করত। অনন্যার স্বামী এক বছর পূর্বে মারা যায়। তার কোন সন্তান ছিলনা না। এ মামলার আসামী নুসরাত জাহান মীম স্বামীর সাথে যোগাযোগ না থাকায় সে তার ননদের সাথে চর সৈয়দপুরে ভিকটিম অনন্যার পাশের বাসায় থাকত। সেই সুবাদে ভিকটিমের সাথে আসামী নুসরাত জাহান মীমের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামী নুসরাত জাহান মীম, ভিকটিম অনন্যা এবং মামলার প্রধান আসামী জীবন (৩০), যিনি আসামী নুসরাত জাহান মীমের কথিত স্বামী এর সহায়তায় ফতুল্লার সন্তাপুরে বাসা ভাড়া নেয়। আসামী জীবন নেশায় আসক্ত ছিল।
গত ২ মার্চ দুপুরে অনন্যা বাথরুমে গোসল করতে গেলে আসামী জীবন ভিকটিমের মোবাইল ফোন চেক করে দেখতে পারে অনন্যার ভাই তাকে আমেরিকা হতে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আটতে থাকে জীবন। পরবর্তীতে ৪ মার্চ আসামী জীবন বাইরে থেকে নিজেদের এবং ভিকটিম অনন্যার জন্য খাবার কিনে নিয়ে আসে এবং সুযোগ বুঝে ভিকটিমের খাবারের সাথে উচ্চ মাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। ভিকটিম এতে কিছুক্ষণের মধ্যে তদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ ফাঁকে জীবন ভিকটিমের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অনন্যার রুমে প্রবেশ করলে ভিকটিম অনন্যা জীবনকে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে। আসামী জীবন সাথে সাথে ভিকটিমের বিছানায় থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম এর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার কথিত স্ত্রী আসামী নুসরাত জাহান মীমকে গ্যাস লাইট নিয়ে আসতে বলে। আসামী নুসরাত জাহান মীম তার কথিত স্বামী আসামী জীবনের কথামত ভিকটিমের পায়ের আঙুলে আগুন দিলে ভিকটিম নড়াচড়া না করায় তারা ভিকটিম এর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে বালিশ, কম্বল, পরিধেয় বস্ত্রাদি দিয়ে লাশ বস্তাবন্দী করে। আসামীরা বস্তাবন্দি লাশ অটোতে করে ম চর সৈয়দপুর এলাকায় ঢাকা হতে মুন্সিগঞ্জগামী রাস্তার বামপাশে ফেলে রেখে উভয়ে পালিয়ে যায়।





























