শিরোনাম
বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দ্রুত বর্ধমান ভোগ্যপণ্যের বাজারে মন্দা

আলোকিত বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত:বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ

Image

চলতি বছরের শুরুতেই রামপুরা এলাকায় টিএম বাজার নামে একটি ছোট সুপারশপ চালু করেছিলেন সাজিদ হাসান। শুরুতে ভালো সাড়া থাকলেও জুলাই আন্দোলনের পর থেকে বিক্রিতে ভাটা পড়েছে তার শপে। এখন দেশের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বাড়েনি বিক্রি।


সাজিদ  বলেন, ‘মুদি দোকান বা এমন সুপারশপের বড় বিক্রি নির্ভর করে এফএমসিজির (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস বা দ্রুত বর্ধমান ভোগ্যপণ্য) ওপর। এখনো এ ধরনের পণ্যের বিক্রি বাড়েনি। সার্বিকভাবে যা মুদি ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’



দেশের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার হয়ে উঠেছিল। খাদ্য, পানীয়, প্রসাধন, গৃহ পরিচর্যা, দুধসহ এমন নিত্যব্যবহার্য পণ্যকে এফএমসিজি বলা হয়, যা তুলনামূলক সস্তা কিন্তু দ্রুত বিক্রি হয়। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের পণ্যের কেনাবেচা বহুলাংশে কমেছে। যাতে বিপাকে পড়েছে দেশের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।


কোম্পানিগুলো বলছে, দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ, কয়েক জেলায় বন্যা, কেনাকাটা-বিনোদনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি না ফেরাসহ নানা কারণে এফএমসিজির বাজারে বিক্রি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।



এসব নিত্যপণ্যের বাজারে বড় একটি কোম্পানি সিটি গ্রুপ। এ গ্রুপের প্রায় তিন ডজন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর আওতায় আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতের পর বাজারজাত করা হচ্ছে। কোম্পানিটির পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেলেও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ততটা ভালো হয়নি। বেশ কিছু সময় ধরে আন্দোলনের পর দেশে বড় বন্যা হলো। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন কঠিন সময় পার করছেন। পণ্যের বিক্রি ও চাহিদা কমে গেছে।’



তিনি বলেন, ‘সাধারণ ক্রেতারা পণ্য একদম কম কিনছেন। যে কারণে বিক্রেতারাও কোম্পানিগুলোর কাছে পণ্য কেনা কমিয়েছে। যার যতটুকু দরকার তার চেয়েও কম কিনে চালিয়ে নিচ্ছে। কেউ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। এছাড়া ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। অনেক এলাকায় এখনো ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। এসব কারণে সার্বিকভাবে এফএমসিজি বাজারে পণ্যের বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে।’


বাংলাদেশে এফএমসিজির বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে দেশি ব্র্যান্ডগুলো। সিটি গ্রুপ ছাড়াও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এসিআই, স্কয়ার, আবুল খায়ের গ্রুপ, কোহিনূর কেমিক্যালসের পণ্যের ব্র্যান্ড সংখ্যা বেশি। বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।


এছাড়াও ব্র্যান্ডভিত্তিক বেশকিছু দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড এফএমসিজির বাজারের বড় অংশীদার। যেমন ভোজ্যতেলে বড় ব্র্যান্ড রূপচাঁদা, নেসলের ম্যাগি নুডলস, চায়ে ইস্পাহানি, দুগ্ধপণ্যের মধ্যে ডিপ্লোমা, ডানো, মিল্ক ভিটা, পানীয় শ্রেণিতে কোকাকোলা-সেভেন আপসহ বেশকিছু ব্র্যান্ড। এসব কোম্পানির অধিকাংশই জানিয়েছেন তাদের বেচাকেনা খারাপ যাচ্ছে।



এফএমসিজি বাজারে আরেক অন্যতম কোম্পানি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার বলেন, ‘ব্যবসা অর্থনীতির কারণে থমকে রয়েছে এখনো। ট্যুরিজম-হোটেল-রেস্তোরাঁ কোনো কিছুতে মন্দা কাটেনি। মানুষ এখনো ঘর থেকে বের হচ্ছে না সেভাবে। তারা ঘুরবে, খাবে তারপর না ভালো ব্যবসা হবে। বিদেশিরাও নেই এখন দেশে। এসব পরিস্থিতি আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সবকিছু স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়।’



কেনাবেচা নিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আগে ক্রেতারা যে পরিমাণে পণ্য কিনতো, এখন তার চেয়ে কম কিনছে। উদাহরণ দিয়ে আবু হোসেন নামে একজন বিক্রেতা বলেন, ‘যে ক্রেতা আগে এক কেজি দুধের প্যাকেট কিনতেন, তিনি এখন ২০০/৪০০ গ্রাম নিচ্ছেন। আবার ধরুন আগে মেঝে পরিষ্কারের জন্য ফ্লোর ক্লিনার কিনতো, এখন ডিটারজেন্ট দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। অনেকে দুধ চা, হরলিক্স এমন অনেক খাবার কমিয়েছে।’


বিক্রেতারা আরও বলছেন, মানুষ এখনো মানসিকভাবে সাম্প্রতিক অস্থিরতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। এ কারণে অনেকে কাজ হারিয়েছে, অনেকে হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেকের বাড়তি আয় বন্ধ। যে কারণে খরচ সাশ্রয়ে মনোযোগী হয়েছে বেশিরভাগ পরিবার।



এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘যখন একটা রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়, সেটা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে- আমরা সেটা প্রায়শ দেখেছি। কারণ এটা একটি বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে, এটা স্বাভাবিক। নতুনভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি হয় এমন পরিস্থিতি। আমরা এখন এমন মধ্যবর্তী অবস্থায় রয়েছি। যে কারণে প্রায় সব ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ যাচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের একটি সরকার চলে গেলো, যাদের নানা পরিকল্পনা ছিল, কম-বেশি যা হোক অর্থনীতি একটা গতিতে ছিল। সেটা এখন বন্ধ হয়েছে। এখন নতুন করে সব হচ্ছে, কোম্পানিগুলোর নতুন চুক্তি, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন। সেটার জন্যও একটু সময় লাগবে। মানুষজনও এখন কিছুটা বিশৃঙ্খল রয়েছে, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সব জায়গায়। তারাও একটু গুছিয়ে নিচ্ছে, খরচ দেখে শুনে করছে। যতটুকু না হলে নয়।’


মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘এছাড়া বিগত সরকারের সময় অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা ছিল। ব্যাংক, গার্মেন্টস, আমদানি-রপ্তানিতে স্থবিরতা ছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে ছিল মানুষ। সেগুলো স্বাভাবিক হতে আরও দু-চারমাস সময় লাগবে।’


আরও খবর
আসছে ৯ লাখ কোটির বাজেট

বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬





মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে বল্লমঝাড়ে চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমানের কঠোর অবস্থান

স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইরানের অর্থনীতি, চাকরি হারিয়ে দিশেহারা লাখো মানুষ

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি, দেশজুড়ে ছাতা বিক্রির হিড়িক

কৃষকের পণ্য ডোর টু ডোর সরবরাহে প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর শুরু

আসছে ৯ লাখ কোটির বাজেট

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

ড্যান্ডিখোরের দৌরাত্ম্যে অনিরাপদ ঢাকার ফুটপাত!

লেকের পানিতে মিশছে গুলশান-বনানীর পয়ঃবর্জ্য

ফ্লাই দুবাই পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে

ফ্যামিলি কার্ডে মাসে ২,৫০০ টাকা পাচ্ছেন ৩৭,৮১৪ নারী: প্রধানমন্ত্রী

নৌ–অবরোধ বাড়ানোর প্রস্তুতি ট্রাম্পের, বাড়ছে তেলের দাম

জলাবদ্ধতায় সড়কে হাঁটুপানি, দুর্ভোগে নগরবাসী

ধান চাষ করে কাঁদছেন কৃষক

ধানঘড়া চারমাথায় চা দোকানের আড়ালে গাঁজা বিক্রির অভিযোগ: স্থানীয়দের উদ্বেগ ‎

কুকরী মুকরী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান ছাত্রনেতা রিমন

ধানঘড়ায় মাদকবিরোধী সংবাদ প্রচারের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ,মেসেঞ্জারে হুমকি

পোরশায় বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে ভাইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

‎“উত্তরধানঘড়ায় যুব সমাজের উদ্যোগে ‎মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

মনপুরায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো মিজানুর রহমান কবির

উত্তর ধানঘড়ায় মাদকবিরোধী আন্দোলন ও সুস্থ সমাজ গঠন কেন্দ্রের উদ্যোগে স্মারকলিপি প্রদান

প্রশাসন না থাকলেই বেপরোয়া হয়ে উঠে সিন্ডিকেট চক্র,বাধা দিলেই হামলা

স্বল্প বেতনে বিলাসী জীবন, সাভার সাব রেজিস্ট্রার জাকিরের হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

‎ধানঘড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নজরদারি জোরদার

রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোঃ মহিবুল্লাহ শেখকে দেখতে চায় জনগণ

‎সংবাদ প্রচারের পর যুব সমাজের উদ্যোগে উত্তর ধানঘড়ায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন

সাতক্ষীরার চম্পাফুল স্কুলে স্বপন ঘোষের নিয়োগের বৈধ্যতা নিয়ে নানান প্রশ্ন; ২৮ বছর যাবৎ তুলছেন বেতন-ভাতা

রূপগঞ্জে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ও তার স্ত্রী-সন্তানের উপর সন্ত্রাসী হামলা

চন্দনাইশে ওয়ারেন্টভুক্ত ২জন আসামী গ্রেপ্তার


এই সম্পর্কিত আরও খবর

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি, দেশজুড়ে ছাতা বিক্রির হিড়িক

আসছে ৯ লাখ কোটির বাজেট

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

বন্ধ ৬টি পাটকল ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে চালুর সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে লোডশেডিং, চাপে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো

রাজস্ব বাড়াতে করপোরেট করহার কমানোর সুযোগ নেই : এনবিআর চেয়ারম্যান

এপ্রিলের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ১০৯ কোটি টাকা

দেশি মুরগি গরুর সমান!

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ধাক্কা, কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি

চেম্বার নির্বাচন, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে ইমাম মেহেদী