
ইয়ার রহমান আনান:কক্সবাজার ব্যুরো
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে উঠছে বহুতল অবৈধ স্থাপনা। শহরের কলাতলি থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং সমুদ্রসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক ভবন নির্মাণ চললেও অধিকাংশের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন বা দাপ্তরিক ছাড়পত্র। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপনে ভবনগুলোতে গিয়ে অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে মালিকপক্ষ নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নির্মাণ বৈধ করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও অনেক নির্মাণকাজ থেমে নেই। ডলফিন মোড় হয়ে মেরিন ড্রাইভে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অসংখ্য চলমান অবৈধ ভবনের কাজ, যা কউকের নির্দেশনাকে কার্যত উপেক্ষারই শামিল।
এ বিষয়ে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, কউক গঠনের পর থেকেই যেভাবে ভবন নির্মাণ বেড়েছে, তার বড় একটি অংশই অনুমোদনবিহীন। ইসিএ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এসব কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন শহরের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহর ও আশপাশের পাহাড় কেটে দ্রুতগতিতে ভবন নির্মাণ চলছে, অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। কউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ খাতে গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, ইসিএ এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই নিয়ম ভেঙে ভবন নির্মাণ করছেন। এসব স্থাপনার বেশিরভাগেরই কউকের অনুমোদন নেই, এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের আগে পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নির্মিত অনেক ভবন থাকলেও কউক গঠনের পর সেই অনুমোদন আর কার্যকর নয়—এ বিষয়টি অনেকেই অবগত নন।
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই জবাব দিচ্ছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























