
রাণীনগর প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগরে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভোগান্তির মুখে পড়েছে। দিনে রাতে অর্ধেক এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিকের এক শিক্ষার্থী বায়জিদ সরদার বলেন, "সামনে এসএসসি ও স্কুলে টেস্ট পরীক্ষা। কিন্তু দিন-রাত লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে আমাদের ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" শুধু শিক্ষা নয়, বিদ্যুতের অভাবে জরুরি নাগরিক সেবায় ডিজিটাল কেন্দ্রগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। উপজেলার ভাটকৈ বাজারের কম্পিউটার ব্যবসায়ী মিঠু প্রামাণিক বলেন, "যে কাজ মাত্র ১০ মিনিটের, বিদ্যুৎ না থাকায় তার জন্য গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি করতে হচ্ছে। এতে আমরা ও গ্রাহক উভয়েই ভোগান্তিতে পড়ছি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও একই দুর্ভোগের কথা জানান। ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। যে কাজ করতে ৩-৪ ঘণ্টা লাগে, তা একদিনেও শেষ করা যাচ্ছে না। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের কলকারখানা, রাইস মিল ও অটোমেটিক গ্যারেজের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না করতে পেরে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ প্রতি মুহূর্তে ওঠানামা করায় নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





























