
মোঃ রেজাউল আজিম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: সরকারি নির্ধারিত অফিস সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদারকে লিখিত কৈফিয়ত তলব করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জেলা দপ্তর জানতে পারে, গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, পূর্বানুমতি বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সরকারি শৃঙ্খলার পরিপন্থী।কৈফিয়ত তলবের চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদারকে পাওয়া যায়নি বলে জানান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে তাদের দাবি।বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন। পরে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, তিনি সরাসরি বানীগ্রাম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত পুনরায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।এর কিছুক্ষণ পর ডা. জুয়েল মজুমদার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় সাংবাদিকরা সরকারি অফিস সময়ে তাকে কর্মস্থলে না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তিনি সকাল ৯টার আগেই অফিসে এসেছিলেন এবং পরে চিকিৎসাসেবা দিতে বাইরে যান।ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, তিনি ৯টার আগেই অফিসে এসেছিলেন। এরপর চিকিৎসাসেবা দিতে বাইরে যান। আগের দিনের বিষয়ে তার ভাষ্য, অফিসে আসার পথে একটি ফোন পাওয়ার পর তিনি সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিতে চলে যান।তবে সরকারি অফিস চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কর্মস্থলে উপস্থিতি, পূর্বানুমতি এবং মাঠপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানের পর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিত কৈফিয়ত তলবের ঘটনায় বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কর্মকর্তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর জেলা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




























