
মো. মুরাদ মৃধা রাণীনগর সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ১৬ জন হতাহতের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১১ জন প্রবাসী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৬টা (সৌদি সময় বিকেল ৩টা) নাগাদ এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহত সকলেই ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের ৪ জন, ডুবাই গ্রামের ২ জন, খরস্রোতা গ্রামের ২ জন, সাধনগরের ১ জন, উদনপই গ্রামের ১ জন এবং বোয়ালিয়া গ্রামের ১ জন রয়েছেন। এছাড়া আরো কয়েকজনের পরিচয় ও গ্রাম শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। শনাক্ত হওয়া নিহত প্রবাসীদের তালিকা: ১. রুবেল প্রামাণিক (পিতা: সাইদুর রহমান, গ্রাম: গন্ডগোহালী) ২. মো. কলিমউদ্দিন (পিতা: মৃত বজলুর প্রামাণিক, গ্রাম: গন্ডগোহালী) ৩. মো. মোহন (পিতা: গুফফার প্রামাণিক, গ্রাম: গন্ডগোহালী) ৪. মো. সুমন (পিতা: গুফফার প্রামাণিক, গ্রাম: গন্ডগোহালী) ৫. শুভ (গ্রাম: ডুবাই) ৬. সুমন (গ্রাম: ডুবাই) ৭. আব্দুল জলিল (গ্রাম: খরস্রোতা) ৮. মজিদুল (পিতা: মজনু, গ্রাম: খরস্রোতা) ৯. সাগর (গ্রাম: সাধনগর) ১০. ফরিদ (গ্রাম: উদনপই) ১১. হৃদয় (গ্রাম: বোয়ালিয়া) ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকে আত্রাই উপজেলার সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নিহত দুই ভাই মোহন ও সুমনের বাবা গুফফার প্রামাণিক বলেন "আমার তিন ছেলের মধ্যে দুজন সৌদিতে কাজ করত। বড় ছেলে মোহন সাত বছর আর সুমন তিন বছর আগে যায়। ছোট ছেলেটি প্রতিবন্ধী, আমি নিজেও প্রতিবন্ধী। মোহনের আগামী মাসেই দেশে আসার কথা ছিল। প্রতিবেশী জামিউল হক জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে মোহন বাড়িতে ফোন দিয়েছিলেন। গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং ওয়াইফাই বন্ধ থাকায় পরিবার সরাসরি কথা বলতে পারেনি। পরে পাঠানো শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন আকুতি জানিয়ে বলেন— মা কেন ফোন ধরতিছো না, আমাদের গোদামে আগুন লাগছে, আমরা বের হতে পারতেছি না। অন্যদিকে গন্ডগোহালী গ্রামের অপর নিহত রুবেলের বাড়িতেও চলছে স্বজনদের কান্নার রোল। রুবেলের চাচাতো ভাই বিপ্লব হোসেন জানান, ১২-১৪ বছর ধরে রুবেল সৌদি আরবে যাতায়াত করছেন। তার মাত্র ১৫ দিন বয়সী একটি নবজাতক কন্যাসন্তান রয়েছে। আত্রাই উপজেলার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ গন্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা ওসমান ও স্থানীয় গ্রামবাসী নিহতদের মরদেহ দ্রুত ও সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "আমরা এখন পর্যন্ত আত্রাইয়ের ১১ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছি। বাকিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সব ধরনের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।





























