
মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে সালিশে নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে মোশাররফ ভূঁইয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন দিবাগত গভীর রাতে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহত মোশাররফ ওই ইউনিয়নের পাটেরকান্দা গ্রামের আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মোশাররফ ভূঁইয়া গত ছয় বছর আগে একই গ্রামের নিলুফাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এসব ঘটনায় নিলুফা বাদী হয়ে স্বামী মোশাররফের বিরুদ্ধে নরসিংদীর আদালতে বিভিন্ন সময়ে চারটি মামলা দায়ের করেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী নিলুফাকে তালাক দেন মোশাররফ। সম্প্রতি নিলুফা গোতাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত রবিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চেয়ারম্যান তাঁর কার্যালয়ে মোশাররফকে ডেকে আনেন। এরপর চেয়ারম্যান নিজের লোকজন নিয়ে সালিশ বসান। সেখানে মোশাররফকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় মোশাররফ জানান, যেখানে দেনমোহর দুই লাখ টাকা সেখানে চার লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। একথা শুনে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রাম পুলিশ দিয়ে মোশাররফকে টয়লেটের ভিতর আটকে রাখেন। পরে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি মারতে গিয়ে চারটি লাঠি ভেঙে ফেলছে তারা। পরে মোশাররফের কাছ থেকে নগদ তিন হাজার টাকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই অপমান সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনে কাঁঠাল গাছে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিহতের মেয়ে সামিয়া জানান, আমার বাবাকে চেয়ারম্যান ডেকে নিয়ে মারধর করেছেন। এই অপমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত রবিন বলেন, সালিশে তাকে কোন ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মনোহরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) কবির হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী মর্গে পাঠানো হয়েছে।





























