
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রসূতিসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তারা জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহের ফলে স্থানীয় পর্যায়েই মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে চিকিৎসার জন্য দূরে যাতায়াত, সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতিতে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণে Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। বিতরণ করা চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা যেন এর সুফল পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উপজেলা প্রশাসনের আশা, এ উদ্যোগের ফলে ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ও সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।




























