
আজিজুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহানকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের স্বাক্ষর রয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী এবং উপাচার্যের অর্পিত ক্ষমতা অনুসারে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান বলেন, তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় শিক্ষা, গবেষণা, মেধা-মনন ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব।” ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দীবাড়ি গ্রামে ১৯৭০ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন ড. হীরা সোবাহান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৩ সালে বিএফএ এবং ১৯৯৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন।কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে খণ্ডকালীন গ্রাফিক শিল্প নির্দেশক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অধীনে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালায় কিউরেটর-কাম-সিনিয়র চারুকলা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১১ সালে ছাপচিত্র বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।শিল্পী ও গবেষক হিসেবে ড. হীরা সোবাহান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শতাধিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ছাপচিত্রকলা, ছাপাই ছবির করণকৌশল এবং চারুকলার কৌশলাদি। এছাড়া তিনি শিল্পবিষয়ক গবেষণা, সম্পাদনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন।




























