
কৃষ্ণ দাস, বিশেষ প্রতিনিধি : ফেনীতে দিনমজুর নুর নবী হোসেন (৩০) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেন (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত নুর নবী হোসেন ভোলা জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন। স্ত্রী বিবি ফাতেমাকে নিয়ে বোতল কুড়ানো ও দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৬ জুলাই ২০২৬ ভোরে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আসামি শাহ পরান নিহতের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে নুর নবীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে আসামি সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় নুর নবীকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় ফেনী হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার, ফেনীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল), ফেনী মডেল থানা ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৭ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে দাগনভূঞা থানা এলাকা থেকে পলাতক আসামি শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।




























