
আব্দুস সামাদ আফিন্দী, বিশেষ প্রতিনিধি:
তিন দিকে পানি, একদিকে সড়ক। এরই মাঝে হালির হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’। পানির ওপর নির্মিত এই ভাসমান বিনোদনকেন্দ্রটি ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন নৌকা, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে দল বেঁধে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন পার্কটিতে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কিং পয়েন্ট এলাকায় নির্মিত পার্কটি গত ১৭ জুলাই উদ্বোধনের পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর আগমনে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজার থেকে রাজাপুর ব্রিজের কিং পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকানপাট। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকার জন্য রয়েছে ঘাট। এরই মধ্যে হাওরের বুকে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজাপুর গ্রামের নয়জন তরুণ উদ্যোক্তা প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এক একর জায়গাজুড়ে পানির ওপর বাঁশের খুঁটি ও কাঠের পাটাতন দিয়ে পার্কটি নির্মাণ করেছেন। দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে ছয়টি গোল ঘর, চেয়ার-টেবিল, পার্টি সেন্টার, পরিচালকের কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেটসহ বিভিন্ন সুবিধা। পার্কের পাশের পানির ওপর আরও দুটি গোল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্লাস্টিকের বোটে করে সেখানে গিয়ে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন দর্শনার্থীরা।
পার্কের রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি সবুজ মিয়া বলেন, ‘এখানে সিঙ্গারা, নুডলস, কফি, লাচ্ছি, ফুচকা, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
দর্শনার্থী আব্দুস সালাম বলেন,জায়গাটি অনেক সুন্দর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশুদ্ধ বাতাস ও মুক্ত আকাশ—সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। পানির ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে বসে খাবার খাওয়ার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।
পরিবার নিয়ে আসা আব্দুল করিম বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা প্লাস্টিকের বোটে ঘুরেছি। সন্ধ্যার পর পার্কের আলোকসজ্জা দূর থেকেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরিবেশটা এত সুন্দর যে বারবার আসতে ইচ্ছে করে।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা মোহাম্মদ সদরুল আলম বলেন, ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এখানে এসেছি। হাওরের মাঝখানে পানির ওপর তৈরি পার্কটির পরিবেশ খুব ভালো লেগেছে।
ভ্রমণ বিলাস পার্কের উদ্যোক্তা সুদীপ্ত তালুকদার বলেন, আমরা নয়জন বন্ধু মিলে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করেছি। এটি জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরের বুকে পানির ওপর নির্মিত একমাত্র ভাসমান পার্ক। প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ এখানে আসেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পার্কটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলছে।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার বলেন, নয়জন তরুণ উদ্যোক্তা হাওরের বুকে পার্ক নির্মাণ করে এলাকাটিকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করেছেন। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও নৌকা চালকসহ বিভিন্ন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বন্দে আলী বলেন, হাওর এলাকায় বিনোদনের জন্য নির্মিত ভ্রমণ বিলাস পার্কটি ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কেড়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশের টহল রয়েছে। পার্কে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ যাতে না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।




























