
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরো
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বেসরকারি জমজম হাসপাতালে অপচিকিৎসা এবং সেবার নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের আইনগত প্রতিকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে রবিবার (২ আগস্ট) চকরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইব্রাহিম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর আড়াই বছর বয়সী কন্যা শারমিন জ্বরে আক্রান্ত হলে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে জমজম হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৬০ ঘণ্টা চিকিৎসা শেষে রোববার সকালে ছাড়পত্র নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৮ হাজার ৫০ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, "আমি একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। বিল কমানোর অনুরোধ জানিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল করিমের কাছে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে মাত্র ৫০০ টাকা কমানোর কথা বলে দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেন।"
ইব্রাহিমের মেয়ের জামাই আবদুল হামিদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আড়াই দিন অবস্থান করলেও তিন দিনের বিল করা হয়েছে। বিলে ভর্তি ফি ৪০০ টাকা, সিট ভাড়া ২ হাজার ১০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ২ হাজার ১০০ টাকা, চিকিৎসকের রাউন্ড ফি (তিনবার) ২ হাজার ১০০ টাকা, ক্যানোলা ফি ৩০০ টাকা, নেবুলাইজার চার্জ ৬০০ টাকা এবং রাইস টিউব বাবদ ৪৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শিশুটিকে ভুল মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য একটি হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন দেখানোর পর সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির বয়স অনুযায়ী একবারে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৬ গ্রাম ওষুধ প্রযোজ্য হলেও জমজম হাসপাতালে ১৬ গ্রাম প্রয়োগ করা হয়েছে, যা শিশুটির জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরেক ভুক্তভোগী, মাতারবাড়ী এলাকার এক নবজাতকের নানা অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই প্রসবজনিত কারণে তাঁর মেয়েকে জমজম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিন দিনের চিকিৎসার জন্য ৪৫ হাজার টাকা বিল নেওয়া হয়। পরে ১৫ দিন বয়সী নবজাতক জন্ডিসে আক্রান্ত হলে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর ছাড়পত্রের সময় ৮ হাজার ১২০ টাকার বিল করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জমজম হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা হাসপাতালটির কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত আলমগীর হোসেন রানা বলেন, "সেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা দিনের আলোয় ডাকাতির শামিল। এ ধরনের বাণিজ্য বন্ধ হওয়া উচিত।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল নোমান মন্তব্য করেছেন - "এই জমজম হাসপাতাল ডাকাতের স্বর্গরাজ্য। প্রশাসন টাকার বিনিময়ে তাদের সব সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসতেছে বলে এই অপকর্ম গুলো করার সুযোগ পায়।
জমজম হাসপাতালের সিইও গোলাম কবির বলেন, "কেউ খারাপ ব্যবহার করেছে কিনা বা ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিয়েছে কিনা? রোগী সহ সাংবাদিক নিয়ে আসুন এর বিচার করবো"।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জায়নুল আবেদীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্থ আছেন জানিয়ে সকালে ফোন দিতে বলেন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ছাবের বলেন, চকরিয়া জমজম হাসপাতালের কার্যক্রম ইতোপূর্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে পুনরায় চালু করেছে। হাসপাতালের লাইসেন্স গত দুইবছর ধরে নবায়ন করা নেই। অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























