
মোঃ সম্রাট আলী
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পরানখালি বাজারে অবস্থিত পশু হাসপাতালের সাব সেন্টারটি গত ২০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে নেই কোন ডাক্তার, কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র। শুধু পড়ে আছে জরাজীর্ন ভবনটি। আশপাশের মানুষের সুবিধার্থে এখানে শুরু থেকে চলতো পশু চিকিৎসা বিষয়ক পরার্মশ ও কৃত্রিম প্রজনন সহ প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা।
পরানখালী বাজারের বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ী সারাবুল বাশারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখানে প্রায় ২০ বছর ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম একদম বন্ধ রয়েছে। ফলে পশু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শত শত মানুষ। আমাদের এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা স্বত্ত্বেও আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এক সময় পশু হাসপাতালের সাব সেন্টারটিত চালু থাকা অবস্থায় সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়া যেতো। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে রয়েছে সকল কার্যক্রম বন্ধ। এলাকাবাসীর চাওয়া, হাসপাতালটি পুনরায় চালু হোক। এতে পশু পালনকারীদের অনেক উপকার হবে।
গবাদি পশু প্রজনন কেন্দ্রের এই বেহাল দশার কারণে উক্ত এলাকার গবাদি পশুর সার্বিক উৎপাদনশীলতা এবং খামারিদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুগ্ধ ও মাংস শিল্পের মানোন্নয়নে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা একটি নীরব বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা রাখলেও মাঠ পর্যায়ের প্রজনন কেন্দ্রটি গত ২০ বছর ধরে বন্ধ থাকায় খামারিরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি এখানে গড়ে উঠেছে অনেক পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম। এ ছাড়া এলাকাগুলোতে অনেকেই হাঁস, মুরগি, কবুতর, খরগোশ, বিড়াল, কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণী পোষেন। কেউ আবার শখ করে বাড়ির ছাদে খামার করেছেন। তাই প্রায় সময় এসব প্রাণীর চিকিৎসা সেবা ও ঔষধপত্র প্রয়াজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় প্রায়ই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে পোষা প্রাণী।
এলাকায় অবস্থিত এই হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়, ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। দীর্ঘ দিন হাসপাতালের ভবন সংস্কার করা হয় না। চারপাশে কোন সীমানা প্রাচীর নেই, নেই কোন আসবাপত্র। এমনকি নেই কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ।
গবাদি পশু পালনকারী আলতাফ শেখ বলেন, আমাদের এলাকার পশু অসুস্থ হলেই নিয়ে যেতে হয় ভেড়ামারাতে। এতে একদিকে বাড়ে কষ্ট, অন্যদিকে বাড়ে ব্যয়।
গবাদি পশু খামারি ঝন্টু শেখ বলেন, ‘গরু অসুস্থ হলে স্থানীয় পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে অনেক খরচ বেড়ে যায়। যদি পশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা হয়, তাহলে অনেক মানুষ উপকৃত হবেন গরু নিয়ে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, পশু হাসপাতালটি দেখলে খুব কষ্ট লাগে। সরকারি ঘর কেমন অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ এখানে পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে আমাদের অনেক উপকার হতো। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যত দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা হবে, তত দ্রুত পশু পালনকারীরা উপকৃত হবেন। আমিও চাই পশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু হোক, যাতে পশু পালনকারীরা উপকার পান। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা উচিত নয়।
ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ তারেক হাসান বলেন, ইতিমধ্যে সরকারের ৪৯৫ জন কৃত্রিম প্রজনন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের যখন লোকবল দিবে তখন সরকার থেকে হয়ত ওখানে লোকবল দিবে। আর বাউন্ডারি সহ ভবনের অবকাঠামোর জন্য আমাদের চাহিদা পত্র দেওয়া হয়েছিলো আমরা অলরেডি আমাদের অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। সেখান থেকে আমাদেরকে পরবর্তীতে যে নির্দেশনা দিবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, ইতিমধ্যে জুনিয়াদহ প্রজনন কেন্দ্রটি আমি ভিজিট করেছি। আসলে অনেকদিন ধরে বন্ধ আছে তো। ওখানে একজন লোক আছে, যিনি ওখানকার সেচ্ছাসেবী, সরকারি কোন কর্মী নাই। আমি জায়গাটা ভিজিট করে দেখেছি ওখানে কোন বসার উপযোগী নাই। উপযোগী করতে হলে ওখানে কিছু খরচ পাতি করতে হবে। চালু করার চেষ্টা করছি। তবে খুব দ্রুত চালু করবো ইনশাআল্লাহ।
এ অবস্থায় জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবি জানিয়েছেন অত্র এলাকাবাসী।































