
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব ধারা উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হবে। আর যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, সেগুলোও আদালতের রায়, জুলাই সনদ এবং জনমতের আলোকে পর্যালোচনা করে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা এসেছে এবং সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এমন কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, যা গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল এবং স্বৈরতন্ত্রকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি করেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া বক্তব্যেও এসব বিধানকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী (আল্ট্রা ভাইরেস) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালত কয়েকটি ধারা বাতিল করেছেন, আর কিছু বিষয়ে সংসদকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন। আপিল বিভাগও মূলত একই অবস্থান বহাল রেখেছেন। ফলে আদালতের রায় কার্যকর রয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী সংসদে আনা হবে।
মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের রায়, জুলাই সনদ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে জনপরামর্শ (পাবলিক কনসালটেশন) করা হবে।
ভবিষ্যতে ব্যবস্থাটির নাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ হবে নাকি ‘অন্তর্বর্তী সরকার’, হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ব্যবস্থাটির নাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ হবে নাকি ‘অন্তর্বর্তী সরকার’, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর সেটি বিশ্লেষণ করে এমন একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে, যা আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।
গণভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রায় পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশোধনী আনা হবে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যেখানে সংশোধন, সংযোজন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হবে, সেখানে আদালতের রায়, জুলাই সনদ এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনপরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া তৈরির সময় মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, কূটনীতিক, ভুক্তভোগী পরিবার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন সংস্কারের কাজ চলছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনেই এসব বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।






































