
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:বাজিতপুর, ৪ মে: ১৯৭১ সালের ৪ঠা মে সংঘটিত বাজিতপুরের ভয়াবহ গণহত্যার স্মরণে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ পরিবার এখনও পায়নি সরকারি স্বীকৃতি—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও বেদনা।প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাজিতপুর হরিসভার উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে নির্মিত বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ঠা মে ভোরের আগে একটি ট্রেনে করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ভৈরববাজার জংশন থেকে সরারচর রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। আগে থেকেই রেললাইনের পূর্ব পাশে কয়েকটি ট্রাক প্রস্তুত রাখা ছিল। ট্রেন থেকে নেমে হানাদাররা ট্রাকে করে বাজিতপুর ডাকবাংলোর সামনে জড়ো হয়।সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মুসলিম লীগ-সমর্থিত স্থানীয় সন্ত্রাসী, আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা শেষে তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দালালদের সহায়তায় বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এসব গ্রামের মধ্যে ছিল পালপাড়া, বসাকপাড়া, পাগলারচর, নান্দিনা, পূর্ব বাজিতপুর, বসন্তপুর, হরিসভা, মথুরাপুর, শোভারামপুর, পৈলনপুর, চন্দ্রগ্রাম ও নিতারকান্দি।ভোরের আলো ফোটার আগ মুহূর্তে নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের ওপর হঠাৎ চালানো হয় নির্বিচার গুলি। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। কিন্তু অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। যারা লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের অনেককেই স্থানীয় দালালরা ধরে এনে হানাদারদের হাতে তুলে দেয়।একইদিনে বাজার এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। হত্যার পাশাপাশি সংঘটিত হয় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। বিভিন্ন সূত্র মতে, ওইদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন।এছাড়া, আটক ব্যক্তিদের গরু-ছাগলের মতো বেঁধে ট্রাকে তোলা হয়। পথে বাজিতপুর ব্রিজ, নিতারকান্দি শ্মশানখলা এবং রাহেলা গ্রামের কাছে অন্তত ২০ জনকে গুলি করে চলন্ত ট্রাক থেকে ফেলে দেওয়া হয়।স্থানীয়দের দাবি, এই গণহত্যা ও শহীদ পরিবারকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। বক্তারা বলেন, ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সত্য ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে।





























