
আজিজুল হাকিম তুহিন, লামাবান্দরবানের লামা উপজেলা এর সরই ইউনিয়নে অবস্থিত কোয়ান্টাম কে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও আতঙ্ক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধ্যানকেন্দ্র ও মানবিক কার্যক্রমের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার একর জমি দখল করে কী করছে তা নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম কৌতূহল ও উদ্বেগ।স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের জমি নানা কৌশলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কেউ স্বেচ্ছায় জমি বিক্রি না করলে তাদের ভয়ভীতি, চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, আবাসিক হোস্টেল, খেলার মাঠ ও ধ্যানঘর নির্মাণের জন্য কতটুকু জমি প্রয়োজন? তাহলে হাজার হাজার একর পাহাড়ি জমি কেন অধিগ্রহণ করা হলো? সেই বিশাল এলাকার ভেতরে আসলে কী চলছে তা আজও স্থানীয় সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, গণমাধ্যম কর্মীদেরও জানতে দেওয়া হয় না।স্থানীয়দের দাবি, কোনো সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহে গেলে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষ বাইরের সামান্য অংশ দেখিয়ে দেয়, কিন্তু ভেতরের মূল এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে আরও বেশি সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।এলাকাবাসীর ভাষ্য, যেখানে শিক্ষা ও মানবিকতার কথা বলা হয়, সেখানে এত গোপনীয়তা কেন? হাজার হাজার একর পাহাড় ঘেরা এলাকাকে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে রেখে আসলে কী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে?স্থানীয়দের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবিষ্যতে কোনো “দ্বিতীয় সলিমপুর” ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তৈরির চেষ্টা চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি।এ বিষয়ে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে স্থানীয় মানুষ প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, পাহাড়ি অঞ্চলে হাজার হাজার একর জমি নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান কী কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা জনস্বার্থে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন।




























