
মোঃ রেজাউল আজিম, বাঁশখালী।চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিয়ে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসকের পরিবর্তে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন আয়া (চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী)। শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়াই নয়, সরকারি ঔষধও বিতরণ করছেন তিনি। সম্প্রতি এ নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করা এবং ‘মব’ সৃষ্টি করে ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া পদে কর্মরত জান্নাত আরা বৈলছড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসকের চেয়ারে বসে রোগী দেখছেন। একজন আয়া কীভাবে নিয়মিত রোগ নির্ণয় করছেন এবং সরকারি ঔষধ দিচ্ছেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু রোগীদের ভুল চিকিৎসাসেবা ও ভুল ঔষধের প্রভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব বাঁশখালী শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক জসিম উদ্দিন বলেন, "একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যদি গাড়ি চালকের আসনে বসে, তাহলে তো অবশ্যই দুর্ঘটনা ঘটবে। তেমনিভাবে একজন আয়া যখন ডাক্তারের আসনে বসে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধের প্রেসক্রিপশন করেন, তখনও যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।"সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে চিকিৎসকের চেয়ারে বসা আয়া জান্নাত আরার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি কিছুই বলব না। আপনাদের জানার অধিকার নাই।" পরে তিনি দাবি করেন, authorities বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তবে কে বা কারা তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা আছে কি না—সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।তথ্য সংগ্রহের সময় আয়ার সঙ্গে একই টেবিলে বসা ছিলেন ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চুক্তিভিত্তিক এক পিয়ন। সাংবাদিকরা অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই পিয়ন উল্টো নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও করা শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন ওই পিয়ন মুঠোফোনে কিছু বহিরাগত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেকে আনেন।কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে সাংবাদিকদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। তারা সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের ওপর তীব্র আপত্তি তোলেন এবং একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলেন। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার নামে চলমান অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের কেন এমন হেনস্তা ও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং তার অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।একজন আয়া কীভাবে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ দিচ্ছেন, তা যেমন তদন্তের বিষয়, তেমনই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি ও ফুটেজ ডিলিট করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




























