
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে আধুনিক ও সম্ভাবনাময় গবাদিপশুর খামার ‘নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম’। অভিজ্ঞ খামারি হুমায়ূন কবীরের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ খামারটিতে বর্তমানে দেশি ও উন্নত জাতের ষাঁড়সহ ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন ধরনের গরু পালন করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত পরিচর্যা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খামারটি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। বিশেষ করে গরু বিক্রির ক্ষেত্রে ওজন মেপে নির্ধারিত দামে বিক্রির ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আস্থা। খামারটিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গরুর ওজন নির্ধারণ করে দাম ঠিক করা হয়, ফলে ক্রেতারা সহজেই ন্যায্যমূল্যে গরু কিনতে পারছেন। খামারি হুমায়ূন কবীর বলেন, “অনেক বছর ধরেই গবাদিপশু পালনের সঙ্গে জড়িত আছি। অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকেই ‘নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে এখানে দেশি গরু, ষাঁড় জাতীয় গরুসহ বিভিন্ন আকারের গরু রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে যারা গরু কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখছেন খামারি হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, “অনেক ক্রেতাই দূর থেকে যোগাযোগ করেন। কেউ যদি কিছু টাকা অগ্রিম দেন, তাহলে আমি নিজেই গরু গাড়িতে তুলে তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটের খোঁজখবর আমি নিয়মিত রাখি। আমার খামার থেকে গরু নিলে বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে ভালো ও স্বাস্থ্যসম্মত গরু পাওয়া যায়।” তিনি আরও জানান, ক্রেতাদের আস্থা অর্জনই তার মূল লক্ষ্য। তাই প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য, ওজন ও মান নিশ্চিত করেই বিক্রি করা হয়, যাতে ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে ভালো গরু পান।। গরু পালন অত্যন্ত দায়িত্বশীল কাজ। প্রতিটি গরুর খাবার, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। মানুষ যেন আস্থার সঙ্গে গরু কিনতে পারেন, সেজন্য আমরা ওজন মেপে নির্ধারিত দামে গরু বিক্রি করছি। ওজন মেপে গরু বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় বাজারে গরুর দাম নিয়ে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হন। তাই আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওজন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করি। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই ন্যায্য সুবিধা পান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু বলেন, “নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম বর্তমানে আমাদের এলাকার একটি পরিচিত ও সফল খামার। হুমায়ূন কবীর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে খামার পরিচালনা করছেন। তার এই উদ্যোগ এলাকার অন্যদেরও গবাদিপশু পালনে আগ্রহী করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের খামার শুধু ব্যক্তিগত সফলতার উদাহরণ নয়, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।” গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ দত্ত বলেন, “বর্তমানে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম’-এ গরুর পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু পালন করলে খামারিরা লাভবান হন এবং ক্রেতারাও মানসম্মত গরু পান। তিনি আরও বলেন, “প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এ ধরনের খামার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। স্থানীয়দের মতে, সততা, স্বচ্ছতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে ‘নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম’ ইতোমধ্যেই এলাকায় একটি নির্ভরযোগ্য গরুর খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারটিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ‘নন্দন কানন ক্যাটেল ফার্ম’ ভবিষ্যতে গাইবান্ধার অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক গবাদিপশুর খামারে পরিণত হবে।





























