
স্টাফ রিপোর্টার
একের পর এক গরুর চালান ধরা পড়ছে, কিন্তু ধরা পড়ছে না চালানের নেপথ্যের কারিগররা। সীমান্তে অভিযান চলছে,গরু জব্দ হচ্ছে,কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের ইঙ্গিত মিলছে; অথচ প্রশ্নের উত্তর মিলছে না—কারা পরিচালনা করছে এই চোরাচালান নেটওয়ার্ক?
মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার একই সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৬টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ধারাবাহিক এই অভিযানের পর সীমান্তজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চোরাচালানের বিস্তৃতি,নেপথ্যের হোতা এবং তাদের প্রভাবের বিষয়টি।
সর্বশেষ রোববার (২ আগস্ট) ভোররাতে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গিছড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করে বিজিবি। জব্দ করা গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।এর আগে ২৯ জুলাই একই উপজেলার বাকাতলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি স্টিলবডির নৌকাসহ আরও ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। ওই চালানের আনুমানিক মূল্য ছিল ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে গরুগুলো জব্দ করা সম্ভব হলেও চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি।
একই সীমান্ত এলাকা থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক গরু জব্দ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সীমান্তপথে এত বড় চালান কারা নিয়ে আসে,কোথায় যায়,কারা অর্থায়ন করে এবং কারা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
স্থানীয়দের দাবি,বাঙালভিটা ও বাকাতলা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চালান জব্দ হলেও অবৈধ এ বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
সচেতন মহলের মতে,সীমান্তে বারবার বড় চালান ধরা পড়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ ও সুসংগঠিত চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষ্য,শুধু গরু জব্দ নয়,এর পেছনে থাকা অর্থদাতা,পরিকল্পনাকারী এবং সুবিধাভোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় চোরাচালানের এই চক্র ভাঙা কঠিন হবে।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত গরু আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তবে সীমান্তবাসীর প্রশ্ন এখনো একই—গরু জব্দ হচ্ছে,কিন্তু ধরা পড়ছে না হোতারা। তাহলে মধ্যনগর সীমান্তে চোরাচালানের নেপথ্যে কারা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন পুরো সীমান্তাঞ্চল।




























