
আনোয়ারা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হওয়া এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮) উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের পর পাশের এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মারুফের (১৯) সঙ্গে কাশফির বিয়ে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাশফিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক উপমা চৌধুরী বলেন, “ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর গলায় একটি দাগ রয়েছে। মৃত ঘোষণার পর স্বামী দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।”
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে কাশফির ওপর নির্যাতন চলছিল।কাশফির বড় বোন ঝুমুর আক্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
নিহতের বাবা আবদুল জলিল বলেন, “বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছিলাম। রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই।”
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “গৃহবধূর গলায় দাগ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”




























