
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজারের ব্যুরোকক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার আওতাধীন ইলিশিয়া গরুর হাট উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একবার বন্ধ করে দেওয়া হলেও, সেই নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে হাট পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী ইলিশিয়া জামিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠেই নিয়মবহির্ভূতভাবে বসেছে গরুর হাট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে এ ধরনের হাট পরিচালনা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী হলেও তা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। হাট চলার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেলো পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নির্ধারিতভাবে মাত্র দুটি পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে ইলিশিয়ায় অবৈধভাবে গরুর হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মুজিদের নেতৃত্বে হাটটি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে সরকারি অনুমোদিত রসিদের পরিবর্তে নামমাত্র ছায়াকপি দিয়ে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যক্তিগতভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মুজিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার জনগণ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনুরোধে বাজারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আগে যারা বাজারের পক্ষে-বিপক্ষে ছিলেন, তারাও এখন একমত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বাজারে কোনো সরকারি রসিদ বা হাসিল নেওয়া হচ্ছে না। তবে খাস কালেকশনের অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।এ বিষয়ে দ্বৈত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেবল দুটি বাজার বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর অবৈধভাবে বাজার পরিচালনার দায়ে একবার অভিযান চালিয়ে বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এরপরও যদি নিয়মিতভাবে অবৈধ বাজার পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া খাস কালেকশনের জন্য বাজার কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন জমা পড়েছে, তবে সেটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার পরও কীভাবে একই স্থানে আবার অবৈধভাবে গরুর হাট পরিচালিত হচ্ছে? সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কারা এই হাট পরিচালনার সাহস পাচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের দায় কার—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।




























