
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সম্ভাব্য পৌরমেয়র প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুকের সহযোগীতায় একটি রাস্তা পাকাকরণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া অপপ্রচারের পেছনের বাস্তবতা অনুসন্ধান করতে ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র এবং স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।ঘটনাটি সাতক্ষীরা পৌরসভার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার নাথপাড়ার একটি ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নিয়ে। এস এম শরিফুল আলমের স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন অভিযোগ করেন, এটি তাদের পারিবারিক রাস্তা; সেখানে ওমর ফারুকের প্ররোচনায় পৌরসভা ইটের সলিং নির্মাণ করেছে। একই সঙ্গে তারা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধেও অপপ্রচারমূলক কথা উত্থাপন করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে একজন সৎ ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। পৌরমেয়র প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে এই সুরাইয়াকে দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন- রাস্তা পাকাকরণের বিষয়টি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং এটি কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়।বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, স্থানীয়দের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পরই পৌরসভা রাস্তাটির কাজ করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় পৌরসভার বিধি অনুসরণ করেই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।অন্যদিকে প্রভাষক ওমর ফারুক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল আলমের ভাই শফিকুল ইসলাম ও শরিফুল আলমের কাছ থেকে ইফতা হাউজিং লিমিটেডের পক্ষে জমি ক্রয় করা হয়। ওই ক্রয়ের অংশ হিসেবে প্রথমে ৬ ফুট এবং পরে আরও ৪ ফুটসহ মোট ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জমি আইনগতভাবে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই রাস্তার সুবিধা দেখিয়ে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে শরিফুল আলমের অপর ভাই আসাদুল ও আরিফ বলেন, বর্তমানে রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং এতে একাধিক মালিকের জমি রয়েছে। এটি কারো ব্যক্তিগত রাস্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তারা আরও বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের আমাদের ভাবী সুরাইয়া গালিগালাজ করে । হয়রানিও হতে হয়েছে অনেককে। আমরা শরিফুলের জমি ক্রয় করে পরে সেটি ইফতা হাউজিংএর কাছে বিক্রি করেছি।অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিবন্ধিত পারিবারিক বণ্টননামার মাধ্যমে শরিফুল আলম সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা লাভ করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল নিবন্ধিত ২৭৮১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৬ ফুট এবং অতিরিক্ত ৪ ফুটসহ মোট ১০ ফুট প্রশস্ত ও ২৬৭ ফুট দীর্ঘ রাস্তা হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই বছরের ১৯ জুলাই নিবন্ধিত ৪৯৫৪ নম্বর দলিলেও ওই ১০ ফুট রাস্তার উল্লেখ পাওয়া যায়।অন্যদিকে শরিফুল আলম ও তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর থানায় রাস্তা দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের মতে, রাস্তার মালিকানা, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা- এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেননা ওমর ফারুক জামায়াত নেতা। সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতাকে বিতর্কিত করলে কোন সমস্যা নেই বলে এই মহিলা তৃতীয় পক্ষের মদদে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত।এ বিষয়ে এস এম শরিফুল আলম ও সুরাইয়া খাতুনের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে যাওয়া হলে বাড়িটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন- সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।




























