
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে আইয়ুব হোসেন (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০) ও মো. জামির হোসেন (৫৭)। তাঁদের মধ্যে শাহিনুর ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, বালুর ড্রেজার থেকে তেল চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় এক ব্যক্তির চাকরি চলে যায়। এ ঘটনায় আইয়ুবের সঙ্গে ওই ব্যক্তির শত্রুতা তৈরি হয়। পরে প্রতিশোধ নিতে শাহিনুর, জামিরসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে শাহিনুরকে দিয়ে আইয়ুবকে তাঁর ভাঙারির দোকানে ঢোকানো হয়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
পরে আইয়ুবের মরদেহ সাদা প্লাস্টিকের মুখ বাঁধা বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ সোনাপুর জালালাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পূর্ব পাশে একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইয়ুব হোসেনের বলে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দীপংকর ঘোষের তত্ত্বাবধানে এবং সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালায়।
তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাহিনুর ও জামিরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত হাতুড়িসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান চলছে।




























