
আবদুল কাদির,স্টাফ রিপোর্টার :
স্বামী মারা গেছেন প্রায় এক বছর আগে। এরপর তিন সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় নাদিরা আক্তারের (৩৫) জীবনসংগ্রাম। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। অভাবের কারণে বড় মেয়ের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, এমনকি ঘুমানোর জন্য একটি খাটও। দুই মেয়ে ও ১৮ মাসের ছেলেকে নিয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে রাত কাটে তাঁর। এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’।
নাদিরার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর (কান্দাপাড়া) গ্রামে। তাঁর স্বামী মাসুদ মিয়া প্রায় এক বছর আগে স্ট্রোক করে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ে চাপিলাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর একমাত্র ছেলের বয়স মাত্র ১৮ মাস।
স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় সন্তানদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নাদিরাকে। প্রতিবেশী ও গ্রামের কয়েকজন মানুষের সহযোগিতায় কোনোরকমে চলছে তাঁর সংসার।
এমন পরিস্থিতিতে নাদিরার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’। শুক্রবার (৬ নভেম্বর/২৬) বিকেলে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁর হাতে একটি ছাগল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। সংগঠনটির আশা, ছাগলটি লালন-পালনের মাধ্যমে নাদিরার পরিবারের জন্য আয়ের একটি স্থায়ী উৎস তৈরি হবে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত নাদিরা বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। মানুষের সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছি। সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারি না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সব সময় চিন্তায় থাকি। এই ছাগলটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি লালন-পালন করে কিছু আয় করতে পারলে সন্তানদের নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব।’
নাদিরা আরও বলেন, ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাকে যেন বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তার আওতায় নেওয়া হয়।’
নাদিরার অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে সহায়তার উদ্যোগ নেন সংগঠনের মডারেটর রুহুল আমিন। তিনি বলেন, নাদিরার পরিস্থিতি জানার পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তাঁরা। বিশেষ করে তিন সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ছাগলটি তাঁর পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন এহছানুল হক বলেন, মানুষের বিপদে ও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নাদিরার মতো অসহায় নারীর পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। ছাগলটি তাঁর স্বাবলম্বী হওয়ার পথে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মডারেটর শরিফুল আলম, রুহুল আমিন, আরিফুল ইসলাম মুবিন, বায়জিদ হাসান রাহুল এবং স্বেচ্ছাসেবক আশরাফুল আলম সৌরভ ও মোস্তাকিম মিয়া।



























