
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরোপবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেড়েছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও হাঁসুয়া তৈরিতে যেন দম ফেলারও সময় নেই তাদের।সরেজমিনে উপজেলার ডুলাহাজারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কামারশালায় চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার নতুন চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কয়লার আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম। আগুনের লেলিহান শিখা, হাতুড়ির টুংটাং শব্দ আর ঘামে ভেজা শ্রমে মুখর পুরো এলাকা।কামার শিল্পীরা জানান, কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তাদের বছরের সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ তৈরি হয়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি ধার ও মেরামত করাতেও প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের।ডুলাহাজারার কামার শিল্পী রিপন কর্মকার বলেন, একটি ভালো মানের ছুরি তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে লোহা আগুনে পুড়িয়ে গরম করা হয়, পরে পানিতে ঠান্ডা করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ঘষামাজা ও ধার দেওয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় ছুরি বা দা।তিনি আরও বলেন, “সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। ঈদুল আজহা এলেই কাজের চাপ বাড়ে। এই সময়টাতেই একটু ভালো আয় হয়, যা দিয়ে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলতে পারি।”এদিকে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে সরঞ্জামের দামও। ফলে অনেকেই নতুন সরঞ্জাম না কিনে পুরোনো দা-ছুরি মেরামতের দিকেই ঝুঁকছেন।চাপাতি বানাতে আসা এমরান সালেহ বলেন, “আগে যে চাপাতি ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম অনেক বেড়েছে। তাই এবার নিজের লোহা দিয়ে চাপাতি তৈরি করালাম।”আরেক ক্রেতা গোলাম কাদের জানান, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে নতুন সরঞ্জাম কেনা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি পুরোনো দা মেরামত করিয়েছেন।চিরিংগা ওয়াপদা সড়কের কামার শিল্পী সুভাষ কর্মকার জানান, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চাপাতি প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাংস কাটার চাকু ৫০ থেকে ৩০০ টাকা, হাঁসুয়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাকা লোহার বঁটি ৬৫০ টাকা এবং কাঁচা লোহার বঁটি ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।ঈদকে কেন্দ্র করে কামার শিল্পীদের এই ব্যস্ততা শুধু ব্যবসার হিসাব নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, শ্রম আর জীবনসংগ্রামের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আগুনের উত্তাপ আর হাতুড়ির শব্দে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রস্তুতি, আর সেই শ্রমেই ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঈদের আমেজ।




























