
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাত গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ১৯৬৬ সালে বিদ্যালয় এবং ১৯৯৫ সালে কলেজ শাখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রায় ২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। স্কুল শাখায় ১২ জন এবং কলেজ শাখায় ২৭ জন শিক্ষক শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার জন্য রয়েছে নিজস্ব লাইব্রেরি ও বিজ্ঞান ল্যাব। তবে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের পুরাতন ভবন সংস্কার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গ্যারেজ নির্মাণ, ছাত্রীদের জন্য পৃথক ও আধুনিক বাথরুম এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলাম বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করছে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাসও নিচ্ছেন। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাবে।" সরকারি শিক্ষক বিপ্লব চন্দ্র সরকার বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।" নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, "আমাদের শিক্ষকরা খুব আন্তরিক। অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে পড়াশোনায় অনেক উপকার হচ্ছে। তবে পুরাতন ভবন সংস্কার ও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ হলে আমরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারব।" একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, "লাইব্রেরি ও বিজ্ঞান ল্যাব আমাদের শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ছাত্রীদের জন্য আলাদা ও উন্নত বাথরুম নির্মাণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।" প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৫৭ শতাংশ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৬২ শতাংশ। ফলাফল আরও উন্নত করতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তা পেলে ভাত গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শুধু সাদুল্লাপুর নয়, সমগ্র গাইবান্ধার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।



























