
মোঃ সম্রাট আলী, দৌলতপুর
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের মাঠ ও চত্বরজুড়ে জমে থাকা পানিতে হাঁটুর কাছাকাছি পানি উঠে গেছে, এতে করে শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রীরা পানিতে ভিজে স্কুলে প্রবেশ করছে। বিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শুরু করে কক্ষগুলোর সামনে পর্যন্ত পানি জমে থাকায় শ্রেণিকক্ষে পৌঁছানোও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকদিন ধরেই স্কুল প্রাঙ্গণে পানি জমে আছে, অথচ এখনও কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, অনেকে স্কুলে আসতেও অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছে।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী পলক হোসেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরেই স্কুল প্রাঙ্গণে পানি জমে আছে, অথচ এখনও কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, অনেকে স্কুলে আসতেও অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন এমন পানি মধ্যে যাওয়া আসায় পায়ে চর্ম রোগসহ অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মারুফা ইয়াসমিন বলেন, “বৃষ্টির পানি বের হওয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতি হয়। এছাড়াও বৃষ্টি পানিতে প্রায়ই মাঠ ডুবে থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছি। বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় এবং আশপাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় চত্বরে অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, জলবদ্ধতার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানাননি।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত যেসব শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকেছে সেগুলো ব্যবহার না করার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল জানান,অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মানের ফলে পানি বের হওয়ার কোনো উপায় নাই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও টেকসই ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সবাই।







































