
মোঃ তোতা মিয়া, হরিণাকুণ্ডু প্রতিনিধি :
বেলা ঠিক দুপুর ১২টা। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেল, অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজ তালাবদ্ধ, ভেতরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। সামনে রাখা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস। বহির্বিভাগে যেতে দেখা মেলে রোগীর উপচে পড়া ভিড় । অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিচ্ছেন শত শত রোগীর চিকিৎসা। ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকটে মেঝেতে রয়েছেন রোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৮টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও ১৮ জন মেডিকেল অফিসার। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১০ পদের মধ্যে তিনজনের নিয়োগ থাকলেও দু’জন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। একজন কনসালট্যান্ট দিয়ে নানা ধরনের অস্ত্রোপচার সেবা দেওয়া হয়।
১৮ জন মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চার-পাঁচ চিকিৎসক প্রশিক্ষণসহ নানা কাজে প্রায়ই বাইরে থাকেন। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এদিকে রোগী বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও এক বছর ধরে নেই চালক। ফলে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটির চালক না থাকার সুযোগে তিন-চার গুণ ভাড়া নিচ্ছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস চালকরা। বাধ্য হয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার মানুষের বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, বারবার চাহিদা পাঠিয়েও চালক ও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।
২০০৩ সালে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। পরে ২০০৭ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শুরু থেকেই একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছিল রোগীদের। এরই মধ্যে গত বছরের জুলাই মাসে চালক শফিউদ্দীন অবসরে যান। তাঁর পরিবর্তে কোনো চালক নিয়োগ না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সেবা। ফলে গ্যারেজে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম অ্যাম্বুলেন্সটি।
বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৭৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তিন-চারজন চিকিৎসক দিয়ে এত মানুষের সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে একটানা আড়াইটা-৩টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেন। তিনি প্রতিদিন অন্তত সাড়ে ৩৫০ রোগী দেখেন।
রোগীর স্বজনের ভাষ্য, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন বেশ কিছু রোগী জেলা সদরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলা হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা থাকলে মাত্র ২০ টাকা প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া দিয়ে বাইরে রোগী নিয়ে যাওয়া যায়। এতে অর্থ সাশ্রয়ও হয়, ভোগান্তিও কম হতো।
স্বজল হোসেন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হরিণাকুণ্ডু থেকে ঝিনাইদহে রোগী নিয়ে গেলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া লাগে ৪০০ টাকা। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস চালকরা ভাড়া নেন দেড় হাজার টাকা। অনেকে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে যান। আগে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কুষ্টিয়ায় রোগী নিলে ভাড়া পড়ত ৭০০ টাকা। এখন তারা ২ থেকে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জামিনুর রশিদ বলেন, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময় ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকে। চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের চালকের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা তাঁর।





























