
মেহেদী হাসান
ফরিদপুর কোতয়ালী থানা এলাকার চরনসিপুর গ্রামের জনৈক জসীম শেখ এর ছেলে জিহাদ (১৪) গত ইং ০১/০৯/২২ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.০০ টার সময় নিজ বাড়ী হতে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানাধীন হরিণবাড়ীয়া গ্রামে তার নানা বারেক শেখ এর বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরপর মামলার বাদী জিহাদ এর দাদা-আঃ লতিফ সেক গত ০৩/০৯/২২ তারিখ সকাল অনুমান ০৭.৩০ টায় মোবাইল ফোনে সংবাদ পান যে, তার নাতী জিহাদ এর মৃতদেহ কালুখালী থানাধীন গঙ্গানন্দপুর ঈদগাহ মাঠে পড়ে আছে। জিহাদ এর নানা বারেক শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জিহাদ এর লাশ সনাক্ত করেন। কালুখালী থানা পুলিশ জিহাদ এর মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুতসহ আলামত জব্দ করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। ময়না তদন্তকালে ডাক্তার জিহাদের পায়ুপথ হতে রেক্টাল সোয়াব ৪টি ষ্টিক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করেন। সিআইডির ফরেনসিক শাখা জিহাদের পায়ুপথ হতে রেক্টাল সোয়াব পরীক্ষা করে তাতে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পান। এই ঘটনায় জিহাদের দাদা-আঃ লতিফ সেক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী কালুখালী থানার মামলা দায়ের করেন। কালুখালী থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মামলার ঘটনাস্থল সংলগ্ন হিরু মোল্লার ঘাট এলাকার মুদি দোকানদার সেলিম মন্ডলকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। আদালতের অনুমতিক্রমে গ্রেফতারকৃত সেলিম মন্ডলকে সিআইডির ফরেনসিক শাখা ঢাকায় উপস্থিত করে ডিএনএ শ্যাম্পুল প্রদান করা হয়। কিন্তু সিআইডির ফরেনসিক শাখা, ঢাকা জিহাদের সংরক্ষিত ডিএনএ নমুনার সাথে সন্দিগ্ধ গ্রেফতারকৃত সেলিম মন্ডল এর ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষায় মিল পাওয়া যায়নি মর্মে মতামত প্রদান করে। কালুখালী থানা পুলিশ গত ০৩/০৯/২২ তারিখ হতে ২২/১২/২২ তারিখ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। রহস্য উৎঘাটন করতে না পেরে জেলা পুলিশের আবেদনের পেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মামলার তদন্তভার পিবিআই ফরিদপুরের উপর ন্যাস্ত করেন।
পিবিআই ফরিদপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিএসসি এঁর সার্বিক সহযোগিতায় পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ)/জনাব মোঃ জালাল উদ্দিন সরদার মামলাটি তদন্ত করেন। যেহেতু জিহাদের পায়ুপথে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, পিবিআই ফরিপুর জেলা প্রাথমিকভাবে ধারণা করে যে, ডিসিস্ট জিহাদ (১৪) কে বলৎকার পূর্বক হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গুরুত্ব সহকারে বলৎকারের বিষয়সহ পিবিআই ফরিপুর জেলা জিহাদ হত্যার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত অব্যাহত রাখে।
তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ)/মোঃ জালাল উদ্দিন সরদার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, ঈদুল আযহা/২০২৩ এর দিন (২৯/০৬/২০২৩ইং) সন্ধ্যা অনুমান ০৬.০০ টার সময় কালুখালী সরকারী কলেজের পরিত্যাক্ত টিনসেড রুমের মধ্যে জোর পূর্বক ১টি ছেলে অন্তর বিশ্বাস (১০) পিতা-সুমন বিশ্বাস, সাং-বোয়ালিয়াকে বলাৎকার করার সময় ভিকটিম ডাক চিৎকার করলে তাকে কোমড়ের বেল্ট গলায় পেচাইয়া হত্যার চেষ্টাকালে কলেজের নাইট গার্ড চিৎকার শুনে আগাইয়া গিয়ে ধাওয়া করে অন্যান্যদের সহায়তায় শাকিল (১৬) নামে ১ জন কিশোরকে আটক করে, কালুখালী থানায় সংবাদ দিলে, থানা পুলিশ তাকে থানায় নিয়া যায়। এই ঘটনায় জনৈক আকাশ মন্ডল বাদী হয়ে শাকিল (১৬) এর বিরুদ্ধে কালুখালী থানার মামলা দায়ের করে। কালুখালী থানা পুলিশ শাকিল (১৬) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। বিজ্ঞ আদালত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু শাকিল (১৬) কে গাজীপুর জেলার সংশোধনাগারে প্রেরণ করেন মর্মে সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার, জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিবিআই ফরিদপুরকে বিষয়টি অবগত করেন।
বিজ্ঞ আদালতে আবেদন পূর্বক আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু শাকিল (১৬) কে রাজবাড়ী কালুখালী থানার পেনাল কোড মামলায় শোন-অ্যারেস্ট এর মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালতের অনুমতিক্রমে শাকিল এর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক শাখায় ডিসিস্টের সংরক্ষিত ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষান্তে রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য প্রেরণ করা হয়। সিআইডি ঢাকার ফরেনসিক শাখা ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষা করে জিহাদের সংরক্ষিত ডিএনএ এর সাথে শাকিল এর ডিএনএর মিল পাওয়া যায় মর্মে মতামত প্রদান করেন।
তদন্ত তদারকী কর্মকর্তাঃ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিএসসি, ইউনিট ইনচার্জ, পিবিআই ফরিদপুর জেলা বলেন আসামি শাকিল (১৬) গাজীপুর জেলার কিশোর সংশোধনাগারে আছে।





























