
ফজলুল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল শেরপুরের খরমপুর এলাকা। সেদিন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী দ্রুতগতির গাড়ি পিষে দিয়ে যায় শিক্ষার্থী মাহবুব আলমকে। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় একটি তাজা প্রাণ।
নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিচার মেলেনি মাহবুবের পরিবারের। অভিযোগ উঠেছে, আইনি গ্যাঁড়াকল আর ‘দায়সারা’ চার্জশিটের বেড়াজালে আটকে আছে শহীদ মাহবুবের রক্তের ঋণ।
ধুলো জমেছে বইয়ে, চোখে জমেছে জল
হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও শেরপুরের পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা গ্রামের শহীদ মাহবুবের বাড়িতে থামেনি শোকের মাতম। ঘরের এক কোণে মাহবুবের পড়ার টেবিল ও বইপত্রগুলো আজ ধুলোবালি মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা মোছা. মাফুজা খাতুন এখনো ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদে চলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাফুজা খাতুন বলেন,
"সেদিন আমার ছেলে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় আইটি সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। সেখানে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মিছিলে সামিল হয় সে। মিছিল চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই ও মারা যায়। আমি বাড়ি থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ট্রলিতে পড়ে আছে আমার বাবার লাশ। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি চাই।"
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন চার্জশিট ও নানা আইনি জটিলতার কারণে অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। স্বজনদের আকুল দাবি—অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম জানান, মাহবুব আলম হত্যা মামলায় মোট ১৫০ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চলছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত করে দেখছে।




























